মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও থেকেঃ ডাক্তারের সার্টিফিকেট জালিয়াতি করে ঠাকুরগাঁওয়ের এক প্রতিবন্ধি স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থ্যা নেয়ার দাবি স্থানীয়দের।

ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের আটগ্যালারিতে ২০১২ সালে স্থ্যাপিত হয় ফ্রীড মাতৃছায়া অটিষ্টিক শিশু নিকেতন প্রতিবন্ধি স্কুল। জেলায় প্রায় ২০টি প্রতিবন্ধি স্কুল থাকলেও ক্ষমতার দাপট ও তদবিরে মাধ্যমে কয়েক বছর আগে ওই প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত করা হয়। রাজনীতির ছত্র ছায়ায় অধ্যক্ষ স্কুল ফাঁকি দিয়ে নিয়মিত দৌড়ঝাপ করেন রাজধানী ঢাকায়। অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের জন্য প্রতিবন্ধি স্কুল, হিজরা সংগঠন, ল’কলেজসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ওই স্কুলের অধ্যক্ষ।

অভিযোগ রয়েছে শুধু স্কুলের শিক্ষক নিয়োগে সার্টিফিকেট জালিয়াতিই নয়, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মচারির কাছে ৪-৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তিনি। অন্যদিকে চাকুরি হয়নি এমন লোকেরও টাকা ফেরত দেয়নি। অর্থের লোভে হিজরা প্রশিক্ষনের নামে কয়েকজন হিজরাসহ বেশকিছু পুরুষ ও মহিলাকে বোকা বানিয়ে সাক্ষর নিচ্ছেন।

যার একটি প্রকল্প পাশ হওয়ার কথা রয়েছে অতি শীঘ্রই। এর চেয়েও গুরুতর অভিযোগ হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ডাক্তারের নামে সার্টিফিকেট জালিয়াতি করা হয়। সার্টিফিকেটে উল্লেখ করা হয় ২০১২ সালে ডাক্তার স্কুলে এসে ৩ মাসে ৭দিন করে ২১ দিন প্রশিক্ষন দিয়েছেন।

সার্টিফিকেটটি জালিয়াতির বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ডাঃ ঝুনু শামসুন নাহারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ২০১২ সালে সুরজিত রায় চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছিলেন। তিনি ২০১৫ সালে পাশ করেন।

ডাঃ সুরজিত রায় চৌধুরীর সাথে ০১৮১৩৫৭১১৪০ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি কোন প্রশিক্ষন বা সার্টিফেকেট প্রদান করিনি। আমার নামে সার্টিফিকেট জালিয়াতির প্রমান পেলে আইনগত ব্যবস্থ্যা নিব।

আর স্কুলের অধ্যক্ষ তাহমিনা আখতার মোল্লাকে সার্টিফিকেটের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে স্কুলে ডাক্তার এসেছিলেন তার প্রমান আছে। আর অন্যান্য অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, আমি অনুরোধ করবো জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাগনকে অভিযোগ খুতিয়ে দেখে এ বিষয়ে ব্যবস্থ্যা নিতে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য