নীলফামারীর ডিমলায় এক প্রভাবশালী একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জোর পূর্বক বিদ্যালয় হতে সন্ত্রাসী কায়দায় বাহির করে দিয়ে বিদ্যালয়টি নিজ দখলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জানাগেছে, উপজেলার গয়াবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম খড়িবাড়ী গ্রামে ২০১০ ইং সালে পশ্চিম খড়িবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়েছে। বিদ্যালয়টির বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ শ ৫৫ জন, শিক্ষক সংখ্যা ৪ জন। ২০১০ ইং সাল হতে বে-সরকারী বিদ্যালয় হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে ৪ জন শিক্ষক নিয়মিত ভাবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান সহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করিয়া আসিতেছে। বর্তমান শিক্ষা বান্ধব সরকারের ঘোষনা অনুযায়ী ২৩ মার্চ ২০১৭ইং (গ) শাখায় উপজেলার ১০ টি বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় গেজেট ভুক্ত হয়। যার মধ্যে পশ্চিম খড়িবাড়ী প্রাথমকি বিদ্যালয়টির নাম উল্লেখ রয়েছে।

গতকাল রোববার পশ্চিম খড়িবাড়ী সরকারী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মালেকা বেগম ডিমলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়টি সরকারী হওয়ার খবর জানতে পেরে। বিদ্যালয়ের সভাপতি মিসেস লায়লা রহমানের স্বামী আঃ রহমান বিদ্যালয়টি(সরকারী) হওয়ার সুবাদে ৪ জন শিক্ষকদের নিকট ৪০ লাখ টাকা দাবী করেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আঃ রহমানের দাবীকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে। গত ২২ জুলাই ২০১৭ইং (শনিবার) বিদ্যালয় চলা কালীন সময়ে (পাঠদান করা অবস্থায়) আঃ রহমান সহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ও শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বিদ্যালয় হতে বাহির করে দিয়ে। বিদ্যালয়টি নিজ দখলে নেন।

এবং প্রতিষ্ঠা কালীন শিক্ষিকা মালেকা বেগম, মমতাজ বেগম, শরিফা খাতুন ও মুক্তা আক্তারকে বাদ দিয়ে। মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে কাগজ পত্র জাল করে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার পায়তারা করছেন। বর্তমানে আঃ রহমানের ভয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে রোদ বৃষ্টির মাঝে পাঠদান করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ মালেকা বেগম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও ডিমলা থানা অফিসার ইনচার্জ বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে আঃ রমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বিদ্যালয়ে জমি দিয়েছি। বিদ্যালয় সরকারী হয়েছে তাই শিক্ষকদের নিকট টাকা দাবী করেছি। এটা দোষের কিছু নয়। প্রয়োজনে বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করবো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জকে বলা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য