কুড়িগ্রামের চিলমারীতে কাজ শেষ না হতেই পাউবোর বাঁধে ধস সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থেকে চিলমারী উপজেলাকে রক্ষার বাঁধ নির্মাণে কাজের মান নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত ২ সপ্তাহে ৪ জায়গায় বাঁধ ধসে যাওয়াকে ঘিরে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।

জানাগেছে,১৯৭৫ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত লালমনির হাটের মোঘলহাট থেকে ধরলারপাড় হয়ে উলিপুরের বুড়াবুড়ি পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার,বুড়াবুড়ি থেকে ব্রক্ষপুত্র নদের পাড় ধরে চিলমারীর হরিছড়ি রেগুলেটর পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার এবং হরিছড়ি থেকে তিস্তা ব্রীজ পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার মিলে মোট ১১৪ কিলোমিটার এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ নির্মণ করা হয়। ২০১২ সাল থেকে ২’শ ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী ও উলিপুর উপজেলাধীন অনন্তপুর নামক স্থান এবং কাঁচকোল ও রমনা এলাকা ভাঙ্গন রক্ষা প্রকপ ফেজ-২ এর কাজ শুরু হয়ে ২০১৭ সালের জুনে শেষ হয়। ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত ১ বছর কাজের ত্রুটি সংশোধনের সময় নির্ধারিত আছে।

এরই মধ্যে জুনে কাজ শেষ হতে না হতেই গত ১৩ জুলাই কাঁচকোল উত্তর ওয়ারী এলাকায় মাসুদ এন্ড কোং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ১৮০৫৬ নম্বর সাইডের পাউবো বাঁধে ২৫ মিটার জায়গা, ১৯ জুলাই কাচকোল দঃ ওয়ারী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নজরুল ইসলামের বাড়ী সংলগ্ন ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের সুশেন চন্দ্রের (রুপান্তর জেভি) ঠিকাদারের ড৪-২/২ নম্বর সাইডের ২৫ মিটার এলাকা,২৫জুলাই কাঁচকোল স্লুইচগেটের উত্তরে কয়েক মিটার ও ২৮ জুলাই স্লুইচ গেটের ১শ গজ উত্তরে খন্দকার শাহিন আহমেদের ১৮০৪৯ নম্বর সাইডের প্রায় ৩০ মিটার এলাকা নদীতে ধসে যায়। এতে উপজেলা রক্ষার গোটা বাঁধটি হুমকির মুখে পড়ায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে বসেছে। একের পর এক জায়গায় ধসের সৃষ্টি হওয়ায় নিম্নমানের কাজকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী।

শুক্রবার বিকেলে ধসে যাওয়া কাঁচকোল স্লুইচ গেট এলাকার মোঃ এন বাবু, সুভাস চন্দ্র,নুর বক্ত মিয়া,মোঃ নুরু মিয়া, এরশাদুল,মঞ্জু মিয়াসহ উপস্থিত অনেকে অভিযোগের সহিত সাংবাদিকদের বলেন,চিলমারী রক্ষার বাঁধ নির্মানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সিসি ব্ল¬ক তৈরি এবং জিও টেক্সটাইল ফিল্টার ও ব্ল¬ক বসানোয় মানা হয়নি সরকারি নিয়মাবলি।এমনকি সঠিক ব্লক ডাম্পিং এবং গাইড ওয়ালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্লক না থাকায় কাজ শেষ হতে না হতেই বিভিন্ন জায়গায় ধসের সৃষ্টি হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে ৪জায়গায় ব্লক ও পিচিং ধসে যাওয়ার ঘটনায় চরমভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বার বার নদী ভাঙ্গনের শিকার হওয়া নদী তীরবর্তি মানুষ। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট খন্দকার শাহীন আহম্মেদ ঠিকাদারের সাথে ০১৭২৬০৭০৩২৩ মোবাইল নম্বরে কথা বললে, উক্ত সাইট তার নয় বলে তিনি দাবী করেন। কিন্তু পাউবো এসডিই মোখলেছুর রহমান ১৮০৪৯ নম্বর সাইড উক্ত ঠিকাদারের বলে জানিয়েছেন।

রাণীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন,ওই সাইডের কাজে ডাম্পিং ্এবং পিচিং কোনটিই ঠিক মতো হয়নি।যার ফলে কাজ শেষ না হতেই বিভিন্ন জায়গায় ধস দেখা দিয়েছে।এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও পাউবোকে কে দায়ী করেন।
এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড উলিপুর-চিলমারীর দায়িত্বে থাকা এসডিই মোখলেছুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি কাজে অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন,এ কাজ গুলির ন্যাচারই এরকম, দু’এক টা মৌসুম সমস্যা হয় পরে ঠিক হয়ে যায়। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম কাজে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,বাঁধের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল বা ধসের ঘটনাটি কোনো ব্যাপার না। ১ বছরের মধ্যে ধস ও ফাটল হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার তা ঠিক করে দিবে।পরবর্তী সময়ে সমস্যা হলে আমরা সারা বছর মেরামত করে যাব।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য