আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আরও রুক্ষ আচরণ করা উচিত, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের পুলিশপ্রধানরা।

পুলিশের বিভিন্ন বিভাগও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে বলে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনের বরাতে জানিয়েছে এনডিটিভি।

সম্প্রতি নিউ ইয়র্কের সাফোক কাউন্টি কমিউনিটি কলেজে জড়ো হওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প সন্দেহভাজনদের প্রতি পুলিশের মানবিক আচরণের সমালোচনা করেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গাড়িতে তোলার সময় যা করেন তার অনুকরণ করে তিনি বলেন, “যখন কাউকে গাড়িতে তোলেন তখন তার মাথাকে রক্ষা করেন, আপনারা জানেন, ছেড়ে দেওয়া হাত দিয়ে কি করা যায়। আপনারা মাথা বাঁচান অথচ তারা হয়তো মাত্রই কাউকে হত্যা করে এসেছে।”

স্থানীয় শহরগুলোতে গোষ্ঠীগত সহিংসতা নিয়ে আলোচনার পরই ট্রাম্পের ওই মন্তব্য আসে।

এরপরই পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ প্রতিক্রিয়া জানায়; বলে, প্রেসিডেন্টের বক্তব্য তাদের দর্শনের সঙ্গে যায় না।

এক টুইট বার্তায় গেইনসভিল পুলিশ বিভাগ (জিপিডি) বলে, প্রেসিডেন্টের মন্তব্য পুলিশের নিষ্ঠুরতার স্বীকৃতি। জিপিডি এই মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করছে এবং সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

সাফোক কাউন্টি পুলিশও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

“আটক ব্যক্তিদের কিভাবে সামলাতে হবে সে সম্পর্কে সাফোক কাউন্টি পুলিশ বিভাগের সুনির্দিষ্ট নীতি ও প্রক্রিয়া আছে, এগুলোর বাইরে কিছু হলে তাকে গুরুতর দৃষ্টিতে দেখা হয়। একটি বিভাগ হিসেবে আমরা আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে রুক্ষ আচরণ সমর্থন করতে পারি না,” এক ইমেইল বার্তায় জানিয়েছে তারা।

লং আইল্যান্ডে দেওয়া ট্রাম্পের ভাষণের তিনটি বাক্য সম্পর্কে উদ্বেগ জানিয়ে পুলিশের শীর্ষ নেতারা বলছেন, ১৯৯১ সালে লস এঞ্জেলেসে পুলিশের হাতে রডনি কিং নিহত হওয়ার পর তিন দশক ধরে যে বিশ্বাসের ঘাটতি বিদ্যমান এবার তার বাধ ভেঙ্গে যেতে পারে।

“এটা ভুল বার্তা; এখন শুধু বাকি আছে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে সবুজ সংকেত আসা,” ডব্লিউটিওপি রেডিওকে এমনটাই বলেন পুলিশ এক্সিকিউটিভ রিসার্চ ফোরামের নির্বাহী পরিচালক চাক ওয়েক্সলার।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের করা মন্তব্যের জবাব এসেছে পুলিশপ্রধানদের আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকেও। শুক্রবার দেওয়া বিবৃতিতে তারা ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করে সন্দেহভাজনসহ সবার সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।

সহিংসতা এবং সন্দেহভাজনদের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে গত কয়েক বছর ধরেই খবরের শিরোনাম হয়েছে মার্কিন পুলিশ বিভাগ।

নিষ্ঠুরতা এবং অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগে সমালোচিত পুলিশের সঙ্গে মার্কিন জনগণের দূরত্ব বাড়ছে; একই কারণে বেশ কয়েকজন পুলিশপ্রধান চাকরিও হারিয়েছেন।

গত বছর পুলিশের হাতে মারা গিয়েছিল ৯৬৩জন: চলতি বছর এখন পর্যন্ত তাদের গুলিতে অন্তত ৫৭৪জন নিহত হয়েছে বলে ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য।

এর মধ্যে সম্প্রতি মিনপোলিস শহরে পুলিশের গুলিতে অস্ট্রেলীয় নারী জাস্টিন ডেমন্ডের মৃত্যুর ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে।

প্রতিবেশী এক বাড়িতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে সন্দেহে ৯১১ তে খবর দিয়ে পরে নিজেই পুলিশের গুলিতে মারা যান জাস্টিন।

ঘটনাস্থলে থাকা দুই পুলিশ কর্মকর্তার শরীরে থাকা ভিডিও ক্যামেরা চালু না থাকায় তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পদত্যাগ করতে হয় মিনেপোলিসের পুলিশপ্রধান জেনি হারটুকে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য