কাহারোল (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ঐতিহাসিক নয়াবাদ মসজিদটি ঐতিহাসিক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তবে জরুরী ভিত্তিতে সংস্কারের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। নয়াবাদ ঐতিহাসিক মসজিদটি টেরাকোটা ভাস্কার্য শিল্পীর দাড়ায় নির্মিত। মসজিদটি সংস্কারের প্রয়োজন হয়ে দাড়িয়েছে, তা না হলে প্রায় ৩শ বছরের মুসলিম ঐতিহ্য ইতিহাস কালে স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে নয়াবাদ গ্রাম। তবে মসজিদটি সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রতœতাত্বিক বিভাগের অবহেলা আর উদাসিনতা রয়েছে বলে অনেকেই জানিয়েছেন।

সংস্কার না হলে হারিয়ে যাবে প্রাচীন মুসলিম সভ্যতা এক ইতিহাস। দীর্ঘদিন ধরে আইনী জটিলতার কারণে স্থানীয় ভাবে মসজিদটি মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বর্তমান সরকারের আমলে ইতোমধ্যে কোটি টাকা ব্যয় করে সাজানো হয়েছে মসজিদের সীমানা প্রাচীর সহ চারিদিক। কিন্তু চারিদিক সাজানো হলেও মসজিদটির কোন সংস্কার কাজ করা হয়নি।

নয়াবাদ মসজিদ ঘুরে দেখা যায়, চারিদিকে সীমানা প্রাচীর তৈরী করা হয়েছে, আরো তৈরী করা হয়েছে সুদৃশ্য উদ্যান, মাদ্রাসা এবং পর্যটকদের বসার স্থান। পর্যটকদের জন্য মনোরম বসার জায়গা, ওযু খানা, গোসল খানা, ল্যাট্রিন, বাহারী ছাউনী, ফুল ফলে শোভয়ীত করা হয়েছে চারীধার। ঐতিহাসিক নয়াবাদ মসজিদকে নিয়ে চারিদিকে সব দারুন আয়োজন। কিন্তু দুঃখের বিষয় মসজিদের মুল অবকাঠামোর তেমন সংস্কার বা মেরামত করেনি প্রতœতাত্বিক বিভাগ ঐতিহাসিক সংরক্ষন বিভাগ কর্তৃপক্ষ।

ইতোমধ্যে মসজিদের ছাদ সহ দেওয়াল ও গম্বুজে দেখা দিয়েছে এক ধরনের ফাটল। টেরাকোটা ভাস্কর্যগুলো খুলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপরের দিকে ছাদ চুয়ে পানি পড়ছে মসজিদের ভিতরে এবং ভিতরের পশ্চিম পার্শ্বের দেওয়াল জুড়ে সবুজ শেওলার দাগ পড়েছে ব্যাপক হারে। বাইরের দেওয়ালে প্লাষ্টারগুলোতে লোনাধরে খুলে পড়ছে চুন সুড়কির প্রলেপগুলো। মসজিদের ৩টি গম্বুজে ও দেওয়ালের প্রায় স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে ঝড়ের দিনে বাতাসের তড়ে মসজিদের মিনারগুলো নড়াচড়া করে। যে কোন সময় মসজিদটি ভেঙ্গে পড়তে পারে এই ভয়ে বর্ষার মৌসুমে মুসল্লিরা ঐতিহাসিক মসজিদের ভিতরে নামাজ আদায় না করে বাহিরের বারান্দায় নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের আইনে উল্লেখ আছে যে, ঐতিহাসিক নির্দশনের মূল অবকাঠামো স্থানীয় ভাবে কোন মতই মেরামত করা যাবে না।

দিনাজপুর জেলা সদর থেকে ২০ কি:মি: উত্তরে কাহারোল উপজেলায় ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দির থেকে ২ কি.মি. দক্ষিনে ঢেপা নদীর কোল ঘেষে নয়াবাদ গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক নয়াবাদ মসজিদটি। ইসলামী ট্যারাকোটা ভাস্কর সমৃদ্ধ এই মসজিদটি কবে কার আমলে স্থাপিত হয়ে তা বিশ্লেষণ করা জটিল ব্যাপার। মসিজিদের শিলালীপি ফারসী ভাষায় অস্পষ্ট থাকায় সঠিক অনুবাদ সন তারিখ উদ্ধার করা দুঃসাধ্য ব্যাপার। নির্মাণ কারী কারিগরদের বংশধর বর্তমানে মসজিদের রক্ষনা বেক্ষন কাজে নিয়জিত।

বর্তমানে কারিগরদের বংশধর মসজিদের মোতয়াল্লী সভাপতি মোঃ আব্দুল মান্নান এর মতে- মুঘল তত্ত্ববধায়নে কান্তজিউ মন্দির নির্মানের কারিগররা তাদের শৈল্পিক হাতের ছোঁয়ায় এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদের নির্মাতা মিস্ত্রিদের মধ্যে নিয়াজ নেওয়াজ ডাক নাম কালু মিস্ত্রির প্রসিদ্ধ। এদের বংশধর এই পর্যন্ত মসজিদের দেখভাল করে আসছেন। কান্তনগর মন্দিরের নির্মাণকারী মুসলমান মিস্ত্রিরা নামাজ আদায়ের জন্য মন্দির ২ কিলোমিটার দুরে নয়াবাদ গ্রামে এই ঐতিহাসিক মসজিদটি নির্মাণ করেন। এদিকে কাহারোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের নয়াবাদ ঐতিহাসিক মসজিদের অবকাঠামো মেরামতের জন্য প্রতœতাত্বিক বিভাগ কর্তৃপক্ষের নিকট ইতিমধ্যে সংস্কারকল্পের জন্য পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য