মোঃ নুর ইসলাম, দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুর শহরের বালুবাড়ী এলাকার তাইবুর রহমানের তালাক প্রাপ্তা স্ত্রী সুফিয়া আক্তার (৪৫) কে গোপন সুত্রের ভিত্তিতে ২৮ জুলাই শুক্রবার সকালে আসামীর নিজ বাড়ী হতে দুদক গ্রেপ্তার করেছে।

আসামী গ্রেপ্তারের সময় যা ঘটেছিলো। সরেজমিনে দেখা যায় যে, দূর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ আব্দুল করিমের নেতৃত্বে একদল দূদক কর্মকর্তা ও পুলিশের সহযোগিতায় আসামীর বাড়ীতে উপস্থিত হয়। আসামী বিষয়টি টের পেয়ে গেলে তার বাড়ীর ভাড়াটিয়ার ঘরে লুকিয়ে থাকে এবং বাহির দিক থেকে আসামীর মেয়ে ঘরে তালা বন্ধ করে দেয়।

অনেক তল্লাশি শেষে লুকিয়ে থাকা ঘরের কথা জান্তে চাইলে আসামী সুফিয়ার মেয়ে মীম বলে উক্ত ঘরের চাবি আমাদের কাছে নেই। ভাড়াটিয়া তালা বন্ধ করে অন্যস্থানে গিয়েছে। অনেক নাটকীয়তার পর এলাকার কাউন্সিলর রেহায়তুল ইসলাম খোকা, আসামীর মেয়ে মীম ও তাদের সকল পরিবার এবং এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে ঘরের তালা ভাঙ্গা হলে তখন উক্ত ঘর থেকে আসামী সুফিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামী সুফিয়া লুকিয়ে থাকা ঘরে ঐ ঘরের ভাড়াটিয়াকে ভয়ভিতি দেখিয়ে তাকেও সাথে নিয়ে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য করে।

দিনাজপুর জেলা দূদক কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল করিম জানান, আসামী সুফিয়া আক্তার চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে অফিস সহায়ক হিসেবে চাকুরিরত অবস্থায় সেখানে ২টি ব্যাংকের (সোনালী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক) ২টি পৃথক পৃথক একাউন্ট এর মাধ্যমে ৪৭ টি চেক এবং ৪ টি ভুয়া চালান এর মোট ২ কোটি ১৭ লক্ষ ২২ হাজার ৩৭৭ টাকা আতœসাৎ এর ঘটনায় চিরিরবন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দীন মোল্লা বাদী হয়ে গত ১৯ এপ্রিল ২০১৬ ইং তারিখে চিরিরবন্দর থানায় অভিযোগ করেন।

উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে একই তারিখে চিরিরবন্দর থানায় একটি মামলা করা হয় যার নং ১৩। মামলাটি দূদকের কাছে গেলে প্রায় সাত মাস পরে পলাতক আসামী সুফিয়াকে আটক করে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য