জার্মানির হামবুর্গ শহরের একটি সুপারমার্কেটে ২৬ বছর বয়সী এক অভিবাসীর ছুরি হামলায় একজন নিহত ও অপর ছয়জন আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও শহরটির কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবারের এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বয়স ৫০ বছর এবং হামলায় রান্নাঘরের ছুরি ব্যবহার করেছে সে।

আহতদের সবার বয়স ১৯ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে এবং হতাহতরা সবাই জার্মান বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলাকারীকে থামাতে যেয়ে তুরস্কের ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

টুইটারে পোস্ট করা ভিডিও ও পুলিশের ভাষ্য থেকে জানা গেছে, হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টাকালে হামলাকারীর দিকে চেয়ার ও অন্যান্য বস্তু ছুঁড়ে মারে পথচারীরা, এতে সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে জন্মগ্রহণকারী ওই ব্যক্তি শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ করে সুপারমার্কেটের ক্রেতাদের ওপর হামলা চালাতে শুরু করে।

এক বিবৃতিতে হামবুর্গের মেয়র ওলাফ শলজ বলেছেন, “হামলাকারী বিদেশি বলে মনে হয়েছে যার দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

তবে শনাক্ত করার মতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় তাকে ফেরত পাঠানো ‍যাচ্ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, “যে তার সুরক্ষার জন্য জার্মানির কাছে আশ্রয় চেয়েছে, সেই তার ঘৃণা জার্মানদের ওপর ঝেড়েছে, এটি ক্ষুব্ধ হওয়ার মতো বিষয়ও।”

পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী কোনো দেশের নাগরিক তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন তারা।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জার্মানির ব্রডকাস্টার এন-টিভিকে বলেছেন, সুপারমার্কেটটির দিকে দৌঁড়ে যাওয়ার সময় হামলাকারী ‘আল্লাহু আকবর’ বলে চিৎকার করেছিল; কিন্তু পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, হামলাকারী এ ধরনের কোনো কিছু বলেছিল কি না তা নিশ্চিত করতে পারছেন না তিনি।

কয়েকটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে হামলাকারীকে ‘ইসলামপন্থি’ বলা হলেও কর্তৃপক্ষ তাকে এ অভিধায় চিহ্নিত করেছিল, এমন কোনও তথ্যও তার কাছে নেই বলে জানিয়েছেন পুলিশের ওই মুখপাত্র। হামলাকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে এখনও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার রাতে বিল্ড সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারী যেখানে বসবাস করতো সেই অভিবাসী আবাসিক কেন্দ্রে তল্লাশি চালিয়েছে জার্মানির আর্মড পুলিশ।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জার্মানির পরবর্তী পার্লামেন্ট নির্বাচন। ২০১৫ সালের অগাস্টে ইউরোপের প্রবেশ করা ১০ লাখেরও বেশি অবৈধ অভিবাসীর জন্য জার্মানির সীমান্ত খুলে দিয়েছিলেন চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল।

নির্বাচনী প্রচারণায় এ নিয়ে উত্তেজনা থাকলেও এবং নিরাপত্তা একটি প্রধান ইস্যু হলেও মের্কেল চতুর্থবারের মতো এই নির্বাচনেও জয়লাভ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য