পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএলএন-নওয়াজ)। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন নিউজ জানিয়েছে, এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে কিছু সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে তাকে। সেই সময়ের জন্য একজন অন্তবর্তী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেবে নওয়াজের দল।

ডন-এর খবরে বলা হয়েছে, দলীয় নেতাকর্মীতের সঙ্গে ৪ ঘণ্টার এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নওয়াজ। বিকেল ৪টায় সংসদীয় দলের বৈঠক শেষে শাহবাজের চূড়ান্ত মনোনয়নের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এরআগে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র ব্যবহার করে এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডন-এর অনলাইন সংস্করণের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অযোগ্য ঘোষণার পর দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন নওয়াজ। সেখানে তার ছোট ভাই শাহবাজকে নতুন প্রধানমন্ত্রী পদে সুপারিশ করেন। তার এ প্রস্তাবে বৈঠকে উপস্থিত কেউই দ্বিমত প্রকাশ করেন নি। উল্টো তারা নওয়াজের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয় নি পিএমএলএন বা পদস্থ কোনো কর্মকর্তা। প্রকৃতপক্ষে দল থেকে এখনও শাহবাজ শরিফকে মনোনয়ন দেয়া হয় নি।

তবে পিএমএলএন পার্লামেন্টারি দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রকে উদ্ধৃত করে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলছে, প্রধানমন্ত্রী হতে গেলে শাহবাজকে অপেক্ষা করতে হবে খানিকটা সময়। মানতে হবে কিছু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হবে তাকে। মনোনয়ন পাওয়ার পর তার প্রধানমন্ত্রিত্বর বিষয়টি জাতীয় পরিষদের ভোটে পাস হতে হবে। পাকিস্তানের পার্লামেন্টে পিএমএলএনের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তারা যাকেই মনোনয়ন দিক না কেন, তিনিই নির্বাচিত হবেন। তাই শাহবাজ শরিফের প্রধানমন্ত্রিত্ব নিশ্চিত বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। তবে ৪৫ দিনের অন্তবর্তী সময়ের জন্য অন্য কাউকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিন্তা করা হচ্ছে।

সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর তালিকায় নাম এসেছিল প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ, জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক, পরিকল্পনা ও উন্নয়নমন্ত্রী আহসান ইকবাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী খানের। দীর্ঘদিন ধরে কন্যা মারিয়াম নওয়াজ শরিফকে নিজের রাজনৈতিক উত্তরসূরী হিসেবে প্রস্তুত করছিলেন নওয়াজ। তবে মারিয়াম নির্বাচিত এমপি না হওয়ায় এই মুহূর্তে তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ নেই।

২০১৩ সালের জুন থেকে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন শাহবাজ। এর আগে ১৯৯৭-৯৯ এবং ২০০৮-২০১৩-র মার্চ পর্যন্ত তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদে ছিলেন। ১৯৮৫ সালে তিনি লাহোর চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-র সভাপতি নির্বাচিত হন। দক্ষ প্রশাসক হিসাবে তার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হতে গেলে তাকে আগে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য