আমেরিকা ও তার তিন ইউরোপীয় মিত্র ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানী এক যৌথ বিবৃতিতে কৃত্রিম উপগ্রহ বহনে সক্ষম ইরানি রকেট পরীক্ষার নিন্দা জানিয়েছে। ওই চার দেশ বলেছে, এই পরীক্ষা চালিয়ে ইরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে।

বৃহস্পতিবার ইরান নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি রকেট সিমোরগের সফল পরীক্ষা চালায়। ইরানি কৃত্রিম উপগ্রহকে কক্ষপথে বহন করে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এ পরীক্ষা চালানো হয়। এটি ব্যবহার করে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরত্বের কক্ষপথে ৩৫০ কিলোগ্রাম ওজনের উপগ্রহ স্থাপন করা সম্ভব।

চার পশ্চিমা দেশ এমন সময় বেসামরিক কাজে ব্যবহারের লক্ষ্যে চালানো ইরানি রকেট পরীক্ষার নিন্দা জানাল যখন ওই চার দেশেরই রয়েছে কয়েক হাজার কিলোমিটার পাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র।

আমেরিকা ও তার মিত্ররা দাবি করছে, ইরান যেসব ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় তা জাতিসংঘের প্রস্তাবের বিরোধী। এ ছাড়া, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পরমাণু ওয়ারহেড বহনে সক্ষম।

অথচ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তার মুখপাত্র নাবিলা মাসরালি সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা দেশটির পরমাণু সমঝোতা বিষয়ক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের লঙ্ঘন নয়।

এ ছাড়া, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বহুবার বলেছে, দেশটির কোনো ক্ষেপণাস্ত্র পরমাণু ওয়ারহেড বহনে সক্ষম করে নির্মাণ করা হয়নি। এ ছাড়া, পরমাণু অস্ত্র নিক্ষেপের কোনো প্রয়োজনও তেহরানের নেই। কারণ, এই অস্ত্র তৈরি, সংরক্ষণ ও ব্যবহারকে সম্পূর্ণ হারাম (ধর্মীয় দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ) ঘোষণা করেছেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য