সংবাদ সম্মেলনঃ ৩৫ শতক জমি দখলের জন্যে পার্বতীপুরের পল্লীতে সন্ত্রাসীরা সংখ্যালুঘু হিন্দু পরিবারের গৃহকর্তা নিখিল চন্দ্রকে গাছের সাথে উল্টো ঝুলিয়ে পাশবিক নির্যাতন এবং বিপুল পরিমান গাছ কর্তনের অভিযোগ এনে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত।

গতকাল বৃহস্পতির্বা সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউপি’র খলিলপুর গ্রামের মৃত ভোবেন্দ্রনাথ রায়ের পুত্র শ্রী নিখিল চন্দ্র রায়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, পৈত্রিক ও ক্রয় সুত্রে আমার পিতা ও তার অপর ৩ ভাই পার্বতীপুর উপজেলার খলিলপুর মৌজার ১৫৭ নং নালিশী খতিয়ানের ১ দশমিক ৪৬ একর সম্পত্তির মধ্যে প্রত্যেকেই সমান ভাবে সাড়ে ৩৬ শতক জমির ভাগ পেয়ে ভোগদখল করে আসছিলেন। ইতিমধ্যে আমার বড় জোঠো ভোলানাথ রায় মারা যাওয়ার পর তার দুই পুত্র যথাক্রমে গিরিশ চন্দ্র এবং গিরিন্দ্র চন্দ্র ওয়ারিশ সুত্রে সাড়ে ১৮ শতক করে জমির ভাগ পায়।

আমার জেঠাতো ভাই গিরিশ চন্দ্র তাহার অংশের চেয়ে অনেক বেশী জমি স্থানীয় জনৈক্য মোতাহারের নিকট এব একই ভাবে আপর ভাই গিরিন্দ্র চন্দ্র নালিশী খতিয়ানে তাহার অংশের বেশী অর্থাৎ ২৪ শতক জমিসহ অন্যান্য খতিয়ানের মোট ৬০ শতক জমি ২৫/০৩/১৯৫৮ সালে তছির উদ্দীনের নিকট বিক্রয় করেন।

তছির উদ্দীনের নিকট হতে আমার পিতা জমি ক্রয় করেন। সেই সময় এসএ রের্কডের কাজ চলছিলো,ভুলক্রমে এসএ রের্কডের ১৮৮ নং খতিয়ানে আমার পিতা ভবেন্দ্রনাথ রায়ের নামের সাথে গিরিন্দ্র নাথ রায়ের নামও লিপিবদ্ধ হয়। অথচ ওই ১৮৮ নং খতিয়ানে গিরিন্দ্র নাথ রায় প্রাপ্য অংশের চেয়ে অনেক বেশী জমি বিক্রয় করেন । সেখানে বর্তমানে তার আর কোন জমি নাই।

গিরিন্দ্রনাথ রায় মারা গেলে তার ৩ পুত্র মানিক চন্দ্র,বিনয় চন্দ্র ও বিবেকান্দকে প্রভাবিত করে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের গডফাদার ও ভ’মিদস্যু প্রফেসর মোঃ মাকসুদার রহমান,জিয়াদুল,মকছেদুল গংরা গত ২১/১০/২০১২ সালে উল্লেখিত তফশীলের বর্ণিত খতিয়ানের ভুয়া ও পনবিহীন জাল দলিল সৃষ্টি করে আমার জমি দখলের চেষ্টা শুরু করে।

স্থানীয় সন্ত্রাসীদের গডফাদার ও ভ’মিদস্যু প্রফেসর মোঃ মাকসুদার রহমান ভুয়া ও জাল দলিলের জন্যে বিভিন্নস্থােন বলে বেড়াচ্ছে এসএ রের্কডে যেহেতু গিরিন্দ্রনাথ রায়ের নাম থাকায় ওই জমির মালিক ক্রয়সুত্রে তারা। এব্যাপারে আমরা এসিল্যান্ড অফিসে অভিযোগ করেও কোন ফল পাইনি কারণ,ভুয়া জাল দলিল সৃষ্টিকারী মাকসুদার রহমান এসিল্যান্ডকেও হাত করেছেন,যে কারনে আমার করা অভিযোগের দরখাস্ত এসিল্যান্ড খারিজ করেন।

তৎক্ষনাত খারিজের বিরুদ্ধে আমি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) আদালতে রিভিশন মোকাদ্দমা করলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব)এসিল্যান্ডের আদেশ বহাল রাখেন। পরবর্তীতে আমি ওই আদেশের বিরুদ্ধে আবারো পার্বতীপুর সহকারী জজ আদালতে ৪১/২০১৬ অন্য মোকদ্দমা আনয়ন করি যাহা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

ভ’মিদস্যু ও সন্ত্রাসীদের লালনকারী মাকসুদার রহমানের হাত থেকে এতকিছুর পরেও আমি জমির দখল রক্ষা করতে পারিনি। চলতি বছর গত ২৮ এপ্রিল তারিখ সকালে সন্ত্রাসী মাকসুদার রহমান দলবলসহ আমার ওই জমিতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দখল করে। আমি ও আমার স্ত্রী তাদের বাধা দিতে গেলে তারা আমাকে পায়ে রশি বেধে উল্টো করে গাছের সাথে টাঙ্গিয়ে বিবস্ত্র অবস্থায় বেধে রাখে এবং মধ্যযগীয় কায়দায় শাররীক নির্যাতন চালায়। এসময় তারা জমিতে থাকা ৪টি বাঁশের ঝোঁপ (৫০০ শতাধিক বাঁশ গাছ), ১৫টি আম,১৪টি কাঠাল,১২টি লিচু,২টি শাল,১টি জাম,১টি শিমুল,১টি মেহগনি,১টি বট গাছসহ ২০টি অন্যান্য গাছ কর্তন করে নিয়ে যায়,যার আনুমানিক মুল্য দেড় লক্ষাধিক টাকা।

আমার এবং আমার স্ত্রী আত্বচিৎকারে আশেপাশের লোকজন ভীড় জমাইলে সন্ত্রাসী চলে যায়। পরবর্তীতে আমি পার্বতীপুর থানায় আমার ৩৫ শতক জমি দখল ও গাছকর্তনের বিষয়ে মামলা করতে গেলে থানা পুলিশ আমার মামলা গ্রহণ করেননি। ওই গ্রামে কেবলমাত্র আমি ও আমার পরিবারই হচ্ছে একমাত্র সংখ্যালুঘু মানুষ ,যেকারনে বারংবার বিচারচেয়েও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কেউই কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। প্রভাবশালী ভ’মিদস্যু মাকসুদার রহমানদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ কিছু বলতেও চায়না।

তিনি দাবী করে বলেন,পৈত্রিক ভোগদখলীয় ৩৫ শতক জমি উদ্ধার এবং ৩দিন ধরে নির্বিচারে কর্তন করা গাছের বিষয়ে ন্যায় বিচার পাবো।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য