গত মার্চে ইয়েমেনের কাছে সোমালিয়ার অভিবাসী বোঝাই একটি নৌকায় প্রাণঘাতী হামলার জন্য সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটকে দায়ী করেছে জাতিসংঘের তদন্তকারী দল।

ওই সমারিক জোটের কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্র নিজেদের দায় এড়াতে ওই জোটকে ছাতা হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ করেছেন তদন্তকারীরা।

সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে ইয়েমেনে নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের পাঠানো ১৮৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দেখে বুধবার এসব তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

লোহিত সাগরের হোদেইদা বন্দরের কাছে অভিবাসী বোঝাই ওই নৌকায় হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছিল ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই নৌকায় ১৪০জনেরও বেশি আরোহী ছিল যাদের মধ্যে ৪২ জন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, “সশস্ত্র একটি হেলিকপ্টার থেকে ৭.৬২ মিলিমিটার ক্যালিবারের অস্ত্র দিয়ে বেসামরিক ওই নৌকাটিতে হামলা চালানো হয়। ওই এলাকার যুদ্ধে একমাত্র সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটেরই এ ধরনের হেলিকপ্টার ব্যবহার করার সামর্থ্য আছে।”

নৌবাহিনীর একটি জাহাজ থেকে ওই হেলিকপ্টার পরিচালনা করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে অভিবাসীবোঝাই নৌকায় হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন এবং ইয়েমেনের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থায়ীত্বের জন্য হুমকি বলেও বর্ণনা করা হয়েছে।

ইয়েমেনের পশ্চিমাস্বীকৃত প্রেসিডেন্ট আব্দ-রাব্বু মানসুর হাদি সমর্থিত সরকারের পক্ষে হয়ে ২০১৫ সালে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এই জোটে সৌদি আরব ছাড়াও মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান, মরোক্কো, সেনেগাল ও সুদানের সামরিক বাহিনীর অংশীদারিত্ব আছে।

প্রতিবেদনে ওই মার্চ মাসেই লোহিত সাগরে নৌবাহিনীর জাহাজ বা হেলিকপ্টার থেকে মাছ ধরার নৌকা লক্ষ্য করে আরো দুটি হামলার কথাও বলা হয়েছে, যাতে অন্তত ১১জন নিহত এবং ৮জন আহত হয়।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশর সরকার এবং সম্মিলিত নৌবাহিনীর কাছে এসব হামলার বিষয়ে তথ্য চেয়েও পায়নি জাতিসংঘের তদন্তকারী দল।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র এবং অন্যান্য সহযোগিতা পেয়ে আসছে।

প্রতিবেদনে জোটের কিছু সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিজেদের বাহিনীর সহিংসতা ঢাকতে জোটের পরিচয় ব্যবহার করারও অভিযোগ করেছেন তদন্তকারীরা; তবে ওই রাষ্ট্রগুলোর নাম উল্লেখ করেননি তারা।

“সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের নামে কিছু রাষ্ট্রের দায় চাপানোর এ ধরনের চেষ্টা ভবিষ্যতেও সহিংসতার পরিমাণ বাড়াতে পারে,” বলে প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা চলতি মাসে ইয়েমেনে কলেরা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার জন্য যুদ্ধরত পক্ষ এবং তাদের আন্তর্জাতিক সমর্থকদের দায়ী করেছেন। যুদ্ধের কারণে দেশটিতে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এবং মানবিক সাহায্য পৌঁছানো যাচ্ছে না বলেও ভাষ্য তাদের।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য