পরকীয়া প্রেমের জেরে খুন হয়েছিল দিনাজপুরের বীরগঞ্জের গৃহবধু মোছাঃ নুরজাহান বেগম (৩৫)। অসম এই প্রেমের খুনি তারই প্রেমিক প্রতিবেশী মোঃ হরমুজ আলী মেম্বারের ছেলে মোঃ আলিফ হোসেন (১৮)।

২০১৬সালের ৩০নভেম্বর সকালে বীরগঞ্জ পৌর শহরের মাকড়াই শালবনের গভীর জঙ্গল থেকে কাহারোল উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের ডহন্ডা গ্রামের মোঃ হাসিমুল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ নুরজাহান বেগমের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ঔদিন রাতে নিহতের ভাই বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ঘোড়াবান্দ আখিরা ডাঙ্গা গ্রামের মৃত বশির উদ্দিনের ছেলে মোঃ কামাল হোসেন বাদী হয়ে বীরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলা নম্বর-১৮। তারিখ ৩০/১১/২০১৬ইং।

পুলিশ তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪জনকে গ্রেফতার করে। পরে বিজ্ঞ আদালতের অনুমতিক্রমে তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের বেশ কিছু তথ্য উদঘাটন করে। স্ইে তথ্যের সুত্র ধরে তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকান্ডের মুল রহস্য উদঘাটন করে মামলার তদন্তকারী অফিসার।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী অফিসার মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম জানান, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় অসম পরকীয়া প্রেমের শিকার হয়েছিলেন কাহারোল উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের ডহন্ডা গ্রামের মোঃ হাসিমুল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ নুরজাহান বেগম। প্রতিবেশী মোঃ হরমুজ আলী মেম্বারের ছেলে মোঃ আলিফ হোসেনের সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে গৃহবধু মোছাঃ নুরজাহান বেগম। আলিফ হোসেন বাবা অর্থনৈতিক ভাবে প্রভাবশালী এবং নুরজাহান বেগমের স্বামী দিনমজুর।

তাদের এই অসম প্রেমের বিষয়টি এলাকায় সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়লে আলিফ হোসেনকে দিনাজপুর শহরের পুলহাট আলামিয়া মাদরাসা ও এতিম খানায় ভর্তি করে দেয় তার পরিবার। এরমধ্যে শারিরিক সম্পর্কের কারণে নুরজাহান গর্ভবতী হয়ে পড়ে। বিষয়টি আলিফকে জানালে আলিফ বাচ্চা নষ্ট করার কথা বলে এবং কিছু টাকা দেয়। এতে রাজী না হয়ে নুরজাহান তাকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। বিষয়টি নিয়ে মাদরাসায় বন্ধু মোহাইমেনুল ইসলাম মিম বাবুকে জানায় আলিফ। বিষয়টি নিয়ে নুুরজাহান মাদরাসা পর্যন্ত যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে আলিফ হোসেন। ঘটনার দিন ২৯ নভেম্বর সে দিনাজপুর সদরের কাচারী সামনে অবস্থিত জনৈক শাহাজানের দোকান থেকে একটি ছুরি ক্রয় করে তার বন্ধু মোহাইমেনুলকে সাথে নিয়ে সন্ধ্যা ৭টায় নিজ গ্রাম ডহন্ডায় আসে।

মোহাইমেনুল নিজেকে ব্রাকের কর্মী পরিচয় দিয়ে নুরজাহানের বাড়ীতে প্রবেশ করে এবং তাকে কৌশলে বাড়ী থেকে বের করে আনে। পরে নুরজাহান এবং আলিফসহ মোহাইমেনুল শালবনের সামনে আসে আলিফ তাকে পাশে রামপুর বাজারে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলে। মোহাইমেনুল চলে যাওয়ার পর শালবনের ভিতরে নিয়ে গিয়ে পুর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ঘুমের ঔষধ মিশ্রিত কোমল পানীয় প্রাণ আপ খাইতে দেয় নুরজাহানকে। এরপর নুরজাহান তাকে তখনি কাজীর বাসায় গিয়ে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করে।

এক সময় নুরজাহান কিছুটা ঘুমের ভাব আসলে ক্রয়কৃত ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে দিয়ে হত্যা করে লাশ সেখানে রেখে পালিয়ে যায়। পরে রামপুর মোড়ে গিয়ে মোহাইমেনুলকে সাথে নিয়ে রাত ১২টায় ট্রাক যোগে দিনাজপুরে মাদরাসায় চলে যায়। পরদিন ৩০ নভেম্বর শালবনের ভিতর থেকে নুরজাহানের লাশ উদ্ধার হলে আলিফ মাদসারা থেকে পালিয়ে যায়। তার বাবা হরমুজ আলী মেম্বার এবং মা মোছাঃ লিপি খাতুন বাড়ী থেকে পালিয়ে যায়। তদন্ত শেষে মোঃ আলিফ ও তার বন্ধু মোহাইমেনুল ইসলাম মিম বাবুর বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করা হয়। ঘটনার পর থেকে মোঃ আলিফ পলাতক রয়েছে এবং তার বন্ধু মোহাইমেনুল ইসলাম মিমকে গ্রেফতার করা হলেও বর্তমানে সে জামিনে রয়েছে।

বীরগঞ্জ থানার ওসি আবু আককাস আহমেদ গৃহবধু হত্যার মুল রহস্য উদঘাটনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই হত্যাকান্ডটির রহস্য উদঘাটনে নানা বিধ জটিলতার সৃষ্টি হয়। তবে সব কিছু উপেক্ষা করে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তথ্য প্রযু্িক্তকে কাজে লাগিয়ে নিবিড় ভাবে তদন্ত করে ঘটনার মুল রহস্য উদঘাটন করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য