আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: নানা অজুহাতে তৃতীয় দফা মেয়াদ শেষ হলেও দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার কয়েক লাখ মানুষের দুর্ভোগ আর ভোগান্তিও আপাতত কাটছে না। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং নির্মাণ তদারকি সংস্থার খামখেয়ালির কারণেই এ অবস্থা।কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সেতুটির মূল অংশের ৯৯ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই এটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

আর এটি চালু হলে লালমনিরহাট সদরসহ আদিতমারী, কালীগঞ্জ ও হাতীবান্ধার সঙ্গে রংপুরের দূরত্ব স্থানভেদে ৩০-৫০ কিলোমিটার কমে আসবে। সহজতর হবে পাটগ্রামের বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে পণ্য পরিবহনও। একই সঙ্গে এসব এলাকার মানুষের যাতায়াত-সংক্রান্ত ভোগান্তিও কমে যাবে বহুলাংশেই।ভৌগোলিক কারণে লালমনিরহাটের উল্লিখিত উপজেলা গুলোর অবস্থান রংপুর বিভাগীয় শহরের খুব কাছে। কিন্তু এখানে তিস্তা নদীতে সেতু না থাকায় এসব অঞ্চলের মানুষকে রংপুর যেতে দীর্ঘপথ অতিক্রম করতে হচ্ছে। একইভাবে রংপুর জেলার গঙ্গাচড়াসহ আশপাশের মানুষকেও লালমনিরহাটে যেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ফলে এ দুই জেলার এসব অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন থেকেই তিস্তা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর ২০১২ সালে লালমনিরহাটের কাকিনা ও রংপুরের গঙ্গাচড়ার মহীপুরে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রথমে ২০১৪ সালের জুনে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা না হলে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। এর পর আরো দুই দফায় এ মেয়াদ বাড়ানো হয়। যার মধ্যে সর্বশেষ চলতি বছরের জুনে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।তবে নির্মাণ তদারককারী কর্তৃপক্ষ বলছে, সেতুর কাজ শেষ হলেও, সংযোগ সড়ক তৈরির পরই চালু করা হবে সেতুটি।বহমান তিস্তার একদিকে রংপুর অন্যদিকে লালমনিরহাট জেলা। এই দুই জেলার মানুষের মাঝে এক নিবিড় সেতুবন্ধন গড়ে তুলতেই দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়।

এ অঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের এই সেতুটি চালু হলে এখানকার একমাত্র স্থল বন্দর বুড়িমারীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে সড়কটি পরিণত হবে আন্তর্জাতিক মহাসড়কে। কিন্তু গত জুনে তৃতীয় দফা বাড়তি সময়ের মেয়াদ শেষ হলেও নানা অজুহাতে সেতুটি চালু করা যাচ্ছে না। ফলে এখনও খেয়া পারাপারই এখনও একমাত্র ভরসা এ দুই জেলাবাসীর।স্থানীয়দের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হলে তারা বলেন, সেতুর কাজ শেষ না হওয়ার কারণে লালমনিরহাট ও রংপুরবাসী চরম দুর্ভোগে পরেছি। নৌকা পারাপারে অনেক সময় রুগী মারাও যায়। আমরা চাই এই কাজটি দ্রুতগতীতে শেষ হয়। সেতুর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হলেও সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণ এবং কাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ এলাকাবাসীর। তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বলছেন, সেতু নির্মাণের কাজ তারা শেষ করেছেন, সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হলেই চালু করা যাবে সেতুটি।

তারা বলেন, সরকারী দামের থেকে জমির দাম বেশি হওয়ার কারণে জমি দিতে চাচ্ছে না। নাভানা কন্সট্রাকশনের উপ-ব্যবস্থাপক বলেন, এই জায়গায়র কিছু জমি ব্যক্তিগত। সেই জায়গা গুলো নিয়ে দ্রুত সমাধান করে রাস্তা তৈরি করা হবে।আর নির্মাণ কাজ তদারককারী প্রকৌশলী বলছেন, সেতু প্রকল্পের কাজ ৯৯ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ আগষ্ট মাসের মধ্যেই শেষ হবে।তিনি বলেন, সেতুর সড়কের কাজ ৯৯ ভাব কাজ শেষ। এখন মুল ব্রিজের সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ সহ এপ্রোচ সড়কের কাজ বাকি। ৮শ ৫০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৯ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থের এই সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১’শ ২১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য