মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনের জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান যে কূটনৈতিক মিশন নিয়ে সফরে বের হয়েছিলেন তা ব্যর্থ হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন চার আরব দেশ ও কাতারের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য তিনি কুয়েত, সৌদি আরব ও কাতার সফর করেন।

গতকাল সফরের শেষ পর্যায়ে এরদোগান কাতারের রাজধানী দোহা পৌঁছান। সেখানে তিনি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলে সানির সঙ্গে বৈঠক করেন। কাতারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কিউএনএ জানিয়েছে, বৈঠকে দু নেতা চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে আলোচনা করেন এবং দু দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি পর্যালোচনা করেন। এছাড়া, চলমান সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে কুয়েতের মধ্যস্থতার প্রশংসা করেন তারা। বৈঠকে শেখ তামিম পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যকার চলমান সংকট নিরসনের বিষয়ে সংলাপ অনুষ্ঠান ও কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এরদোগান কীভাবে চলমান সংকটের সমাধান করতে চান তা পরিষ্কার নয় কারণ তিনি নিজেই সরাসরি কাতারের পক্ষ নিয়েছেন। এ কারণে তুর্কি প্রেসিডেন্টকে সৌদি নেতৃত্বাধীন দেশগুলো বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গ্রহণ করবে বলে মনে হয় না। এ সফরে সৌদি আরব থেকে কাতারে যাওয়ার সময় তিনি বিশেষ কোনো বার্তা নিয়ে গেছেন কিনা তাও স্পষ্ট নয়। এছাড়া, গতকাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনোয়ার গারগাশ সরাসরি বলেছেন, “এরদোগানের আঞ্চলিক এ সফরের কোনো মূল্য নেই। আংকারা দ্রুত কাতারের পক্ষ নিয়েছে এবং এরদোগানের এ সফরে নতুন কিছু নেই; বড় জোর কাতারে তার এ সফরের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।”

এর আগে, গতকাল তিনি সৌদি আরবে রাজা সালমান ও তার ছেলে যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু সেই বৈঠকে তিনি কী অর্জন করেছেন তা নিয়ে কোনো বক্তব্য নেই এবং সৌদি গণমাধ্যমও এ নিয়ে তেমন কোনো খবর প্রকাশ করে নি। অবশ্য, তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু দোহায় বলেছেন, তার দেশ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং কাতার ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠানের চেষ্টা করছে। তিনি আশা করেন, শিগগিরি এ ধরনের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।

তবে, তুরস্কের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগে হিতে বিপরীত হতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। কারণ তুরস্ক কাতারের পক্ষ নেয়ায় সৌদি নেতৃত্বাধীন দেশগুলোর কাছে আংকারার অবস্থান এখন নিতান্তই শত্রু পক্ষের দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সে কারণে তুরস্কের পক্ষ থেকে বার বার বৈঠকের কথা বলার কারণে সৌদি নেতৃত্বাধীন দেশগুলো আরো বিরক্ত হতে পারে।

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো সফর করেছেন কিন্তু সমস্যা সমাধানে সফল হতে পারেন নি। গতকাল রাশিয়া বলেছে, দুপক্ষ অনুরোধ করলে মস্কো মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে প্রস্তুত রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য