রংপুরে অবৈধভাবে অস্ত্রের লাইসেন্স পাইয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে শামছুলকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। সোমবার কোতয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক মোখতারুল আলম ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তারিক হাসান ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে দুদকের পক্ষ থেকে তাকে দুই দফায় ৮ দিনের রিমান্ড নেয়া হয়েছিল।

শামসুল ইসলাম রংপুর ডিসি অফিসের জেএম শাখার অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিভিন্ন এলাকার মানুষের ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে রংপুরের ডিসি সই জাল করে কয়েক তিন শতাধিক ভুয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দিয়েছেন তিনি। বিষয়টি প্রকাশ পেলে ডিসি অফিসের জেএম শাখায় তলাশি চালিয়ে ১৫টি অগ্নেয়াস্ত্রের ভুয়া লাইসেন্স ১১টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের বিপরীতে নগদ ৭ লাখ ১১ হাজার টাকা, এফডিআর ও ২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র উদ্ধার করা হয়।

দুদকের দুদফা রিমান্ড শেষে অবৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স পাইয়ে দেয়ার বিষয়টি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে স্বীকার করেন শামসুল ইসলাম। এসময় তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের নামও প্রকাশ করেছেন। প্রাথমিক ভাবে তদন্তে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদক কর্মকর্তা ।

তিনি আরো জানান, জবানবন্দিতে শামসুল ৩’শয়ের বেশি ভুয়া অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন। প্রতিটি লাইসেন্সের জন্য তিনি ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা করে নিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা অমূল্য চন্দ্র রায় বাদি হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি পরে দুদকে স্থানান্তর করা হলে রংপুর র‌্যারের সদস্যরা গত ৬ জুলাই তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। প্রথম দফার ৫দিনের রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় শামসুল ইসলামকে। এরপর আরো জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হওয়ায় শামসুলকে ৩ দিনের রিমান্ড নেয় দুদক। এর পর সোমবার তাতে তৃতীয় দফা রিমান্ডে নিল পুলিশ।

এদিকে কোতয়ালী থানার ওসি এবিএম জাহিদুল ইসলাম জানান, শামসুল ইসলামের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে জিঞ্জাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য