মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) থেকেঃ নীলফামারীর সৈয়দপুরের কয়ানিজপাড়ায় প্রাইভেট শিক্ষক কর্তৃক শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে বাদিনী মোছাঃ লাবনী আক্তার-২৮ (২৪ জুলাই) সোমবার সকালে কয়ানিজপাড়ায় নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লাবনী আক্তার সৈয়দপুর শহরের সৈয়দপুর তুলশিরাম সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ রশিদুল ইসলাম বসুনিয়া (৪০) তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার নাবালক সন্তান রুহুল আমিন ও রিতিকাকে প্রাইভেট পড়ানোর জন্য গৃহ শিক্ষক হিসেবে সৈয়দপুর তুলশিরাম গার্লস্ স্কুলের সহকারী শিক্ষক মোঃ রশিদুল ইসলাম (৪০) কে ঠিক করি। শিক্ষক রশিদুল ইসলাম আমার সন্তানদ্বয়কে প্রাইভেট পড়ানোর সময় প্রায় আমার দিকে কুদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতেন। সন্তানদের প্রাইভেট পড়ান ভেবে আমি উক্ত বিষয়টি কোনরুপ আমলে নেইনি।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ০৮/০৬/২০১৭ ইং তারিখে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৭.৩০ ঘটিকার সময় আমার সন্তানদের প্রাইভেট পড়ানোর জন্য শিক্ষক রশিদুল আমাদের ভাড়াবাড়িতে আসেন এবং রাত আনুমানিক ৮ টার সময় আমার কাছে শরবত খাইতে চাইলে আমি শরবত বানানোর জন্য রান্না ঘরে যাই। সে সময় আমার অজান্তে শিক্ষক রশিদুল ইসলাম সম্পুর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে তাহার যৌন কামনা চরিতার্থে আমার পিছু পিছু রান্না ঘরে ডুকে অতর্কীত আমাকে জড়িয়ে ধরে আমার বুকে এবং গোপন অঙ্গে হাত দিলে তৎক্ষনাৎ ওই লম্পট শিক্ষকের হাত থেকে সরিয়া চিৎকার করিতে থাকিলে আমার নাবালক সন্তানসহ স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে আসিয়া লম্পট শিক্ষক রশিদুল ইসলামকে আটক করে।

সংবাদ সম্মেলনে লাবনী আক্তার তার লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সালিশ হয়। সেখানে তার পক্ষে কিছু বহিরাগত লোকজন নিয়ে সালিশে আমাকে জীবন নাশের হুমকী দেয় হত্যা করে লাশ গুম করিয়া দিবে বলে হুমকি দিয়ে বৈঠক থেকে চলে যায়।

পরে আমি গত ১৬/০৬/২০১৭ ইং তারিখে সৈয়দপুর থানায় অভিযোগ করিতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মোকদ্দমা গ্রহন না করিয়া, মাননীয় আদালতে মোকদ্দমা করার পরামর্শ দেন। আমি বাধ্য হয়ে লম্পট শিক্ষক রশিদুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে ২০০৩ ইং সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারার ও দঃ বিধির ৫০৬ (২) ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করেছি।

মামলা দায়ের করার পর থেকেই আসামী লম্পট শিক্ষক রশিদুল ইসলাম মামলা তুলে নেয়ার জন্য আমি, আমার স্বামী মোঃ রবিউল ইসলামসহ আমার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকী-ধামকী দিচ্ছেন। তাছাড়াও মামলার স্বাক্ষীগণকেও বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। আমি এবং আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ অবস্থায় আমি ও আমার স্বামী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ মামলার সঠিক তদন্ত ও সু-বিচারের মাধ্যমে, আসামী লম্পট শিক্ষক রশিদুল ইসলামকে উপযুক্ত শাস্তি প্রদানের দাবী জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে শিক্ষক রশিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার বাসায় গেলে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হন নাই। (ছবি আছে)।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য