মিয়ানমারের ব্যাপক অংশজুড়ে দেখা দেওয়া বন্যায় এক লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, মারা গেছেন অন্তত দুইজন।

নদী ভাঙনে একটি প্যাগোডা, সরকারি ও বেসরকারি আবাসস্থল বিলীন হয়ে গেছে বলে সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

জুলাইয়ের প্রথম থেকে দেশটির মধ্যাঞ্চলে শুরু হওয়া ধারাবাহিক বৃষ্টিপাতে বন্যার পানি অব্যাহতভাবে বেড়ে চলেছে। এতে অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু জায়গায় চলে গেছে এবং অন্যান্যরা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের আবাসস্থলে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে দেশটির এক ত্রাণ কর্মকর্তা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেশটির সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক কো কো নায়িং বলেছেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে, কিন্তু এখন যা হচ্ছে তা আবহাওয়ার ওপরে নির্ভর করবে। বন্যা দুর্গত এলাকাগুলোতে সহায়তা দেয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি, কারণ প্রতি বছরই বন্যা হয়।”

সরকার সোমবার এক লাখ ১৬ হাজার ৮১৭ জন বন্যার্তের মাঝে খাবার ও অন্যান্য ত্রাণ বিতরণ করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি যে এলাকাগুলোর বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে সেসব এলাকার বাসিন্দাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আশ্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

দেশটির সাগাইং অঞ্চলে এক ব্যক্তি পানিতে ডুবে মারা গেছে এবং চীন রাজ্যে একটি পাহাড়ি ছড়া পার হওয়ার সময় অপর একজন ভেসে গেছে বলে জানিয়েছেন পুনর্বাসন কর্মকর্তা কে থয়ুয়ি উয়িন।

শনিবার মাগওয়ে এলাকায় বাড়তে থাকা বন্যার পানিতে বুদ্ধের পায়ের ছাপ সংরক্ষিত থাকা একটি প্যাগোডা ডুবে গেছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এছাড়া বাগো অঞ্চলে ছোট একটি বাঁধ ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছে সংবাদপত্রটি।

বৃহস্পতিবার পাকোকুর কাছে একটি সোনায় মোড়া একটি প্যাগোডা ইরাবর্দী নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ওই প্যাগোডার প্রধান ভিক্ষু জানিয়েছেন, বর্ষাকালে ওই এলাকায় বন্যা হয়ে থাকলেও এ বছরের বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। নদীর পাশের কয়েকটি গ্রামও এর মধ্যে পানিতে বিলীন হয়ে গেছে বলে বলে জানিয়েছেন তিনি।

“গ্রামবাসীরা এখানে শঙ্কার মধ্যে বসবাস করছেন। বন্যার পানি কমলেও ভাঙন অব্যাহত আছে,” বলেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য