প্রতিদ্বন্দী সংগঠন হামাসের সঙ্গে আলোচনাধীন একটি বিদ্যুৎ বিনিময় চুক্তি নিয়ে প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ফিলিস্তিনের নির্বাসিত রাজনীতিবিদ এবং সাবেক ফাতাহ নেতা মোহাম্মদ দাহলান। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে টেলিফোনে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করেছেন তিনি।

রবিবার (২৩ জুলাই) এপিতে প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে আগস্টের শেষ নাগাদ মিসর-গাজা সীমান্ত খুলে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন দাহলান। এ চুক্তির মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ বিখ্রাট কমে যাবে বলেও মনে করেন তিনি। সাবেক এ ফাতাহ নেতা জানান, চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতই এ অর্থের যোগান দিচ্ছে।

২০০৭ সাল থেকে ইসরায়েল গাজার ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। আর সেকারণে গাজা থেকে বাইরের জগতের সঙ্গে এই রাফাহ সীমান্ত দিয়ে যোগাযোগ করা ছাড়া আর কোনও পথ নেই। গাজাবাসীর জন্য বহির্বিশ্বে যাতায়াতের জন্য রাফাহ সীমান্তই একমাত্র পথ যা ইসরায়েলের ভূখণ্ডের মধ্যে পড়ে না৷ এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত দশক ধরে অবরোধের কারণে খুব খুব হঠাৎ হঠাৎই রাফাহ সীমান্ত খোলা পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবরোধের পাশাপাশি যোগ হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ঘটনা। খুব সম্প্রতি দেখা গেছে গাজাবাসীকে দৈনিক ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে। বিদেশে পড়াশোনা, কাজ করা এবং চিকিৎসা নিতে যাওয়ার জন্য অনেক গাজাবাসীই এখন অপেক্ষায় আছেন। তাই রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়ার অর্থ অনেকটা সারা পৃথিবীকেই গাজাবাসীর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া৷

দাহলান-হামাস চুক্তির লক্ষ্য হলো সীমান্ত অবরোধের অবসান এবং গাজার অর্থনীতির পুনর্জাগরণ। তবে এ চুক্তিটি গাজাকে বিচ্ছিন্ন সত্তায় পরিণত করবে বলে যে উদ্বেগ রয়েছে তা নাকচ করে দিয়েছেন দাহলান। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশপ্রেমিক, বিচ্ছিন্নতাবাদী নই।’ ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডকে বিভাজিত করার যেকোনও প্রচেষ্টা নস্যাৎ করবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দাহলান জানান, একসময় যা অচিন্তনীয় ছিল তা এখন সম্ভব হচ্ছে গাজায় নতুন করে নির্বাচিত হামাস নেতা ইয়েহিয়ে সিনওয়ারের সঙ্গে তার সম্পর্কের কারণে। তিনি জানান, এ দুই নেতা গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস শরণার্থী শিবিরে বড় হয়েছেন। পরে তারা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা আন্দোলনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন হামাস ও ফাতাহতে যোগ দেন।

তিনি বলেন, “আমরা দুইজনই উপলব্ধি করেছি গাজার জন্য সমাধান খুঁজে বের করার সময় এসেছে।”

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দাহলান-হামাসের মধ্যকার ও চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস আরও কোণঠাসা হয়ে পড়তে পারেন। কারণ, দাহলান ও হামাসের সঙ্গে আব্বাসের তিক্ততার সম্পর্ক।

অবশ্য, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা দাহলান দাবি করেছেন, মাহমুদ আব্বাসের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কোনও ইচ্ছে তার নেই। দাহলান বলেন, “প্রেসিডেন্ট হওয়ার কোনও আকাঙ্ক্ষা আমার নেই। আমার বয়স যখন কম ছিল তখন এমন আকাঙ্ক্ষা ছিল কিন্তু এখন আমি পরিস্থিতি দেখি কেবল। ভুখণ্ডের ৭০ শতাংশ ইসরায়েলিদের নিয়ন্ত্রণে, আমাদেরকে রাষ্ট্র ফিরিয়ে দেওয়ার কোনও ইচ্ছে তাদের নেই।”

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য