দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৭ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। গড় পাশের হার ৬৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। রোববার (২৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. তোফাজ্জুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। তবে এবারে এইচএসসির ফলাফলে বেশ বিপর্যয় ঘটেছে। এবারে পাশের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুটোই কমেছে।

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শক্ষাবোর্ডে ২০১৭ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ১ লাখ ৫ হাজার ৪শ’ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ৬৮ লাখ ৯ হাজার ৭২জন উত্তীর্ণ হয়েছে। গড় পাশের হার ৬৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তবে এবারের এই বোর্ডের অধীনে ১৬টি কলেজ থেকে কেউই পাশ করতে পারেনি।

গত বারের এবারেও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের গড় পাশের হার বেশী। ছাত্রীদের পাশের হার ৬৮.৩৯ শতাংশ এবং ছাত্রদের পাশের হার ৬২.৮১ শতাংশ। এবার পাশের হার ও জিপিএ-৫ আগের বারের চেয়ে কমেছে। এবারে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৯৮৭ জন। যা গতবার পেয়েছিল ৩ হাজার ৮৯৯ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রদের সংখ্যা বেশী। ছাত্রদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৭৯১ জন ও ছাত্রীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৯৬জন।

বিজ্ঞান বিভাগে ২৬ হাজার ৫১৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ন হয়েছে ২০ হাজার ৫৩৬ জন। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭৪৮ জন। বিজ্ঞান বিভাগের গড় পাশের হার ৭৭.৪৪ শতাংশ। মানবিক বিভাগে ৬৩ হাজার ১১৭ জনের মধ্যে ৩৮ হাজার ১৫ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ন হয়েছে। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১৯৫ জন। মানবিক বিভাগে গড় পাশের হার ৬০.২৩ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৫ হাজার ৭৬৬ জনের মধ্যে উত্তীর্ন হয়েছে ১০ হাজার ৪২১ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৪৪ জন। এ বিভাগে গড় পাশের হার ৬৬.১০ শতাংশ।

বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে গড় পাশের হার ৬৫.৪৪ শতাংশ। তিন বিভাগে ছাত্রদের পাশের হার ৬২.৮১ শতাংশ ও ছাত্রীদের পাশের হার ৬৮.৩৯ শতাংশ।

এদিকে কয়েক বছরে ফলাফল ছিল নিম্নরুপ- ২০০৯ সালে ৫৯ হাজার ৩৯৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩২ হাজার ৭২২ জন উত্তীর্ন হয়। গড় পাশের হার ছিল ৫৫.৯০ ভাগ। ২০১০ সালে ৭৩ হাজার ৮৯৮ জন পরীক্ষার্থী মধ্যে ৪৯ হাজার ২০২ জন উত্তীর্ন হয়। পাশের হার ছিল ৬৭.৫৪ ভাগ। ২০১১ সালে ৭৫ হাজার ৪৫৭ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ৪৮ হাজার ৬৮৫ জন। পাশের হার ছিল ৬৬.১৮ ভাগ, ২০১২ সালে ৮৭ হাজার ৫০৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ৬৪ হাজার ৬৭৯ জন। পাশের হার ছিল ৭৫.৪১ ভাগ, ২০১৩ সালে ৮৮ হাজার হাজার ৪৪৪ মধ্যে ৬৩ হাজার ৬২৪ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। পাশের হার ছিল ৭১.৯৪ ভাগ, ২০১৪ সালে ৯৭ হাজার ৩৩ পরীক্ষার্থীর উত্তীর্ণ হয় ৭১ হাজার ৯৪০ জন ও গড় পাশের হার ছিল ৭০.৪৩ শতাংশ, ২০১৫ সালে ৮৮ হাজার ৯৮৮ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ৬২ হাজার ৬৭১ জন পরীক্ষার্থী এবং পাশের হার ছিল ৭০.৪৩ শতাংশ। ২০১৬ সালে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৬ পরীত্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ৭২ হাজার ৮২৯ এবং পাশের ছিল ৭০.৬৪ শতাংশ।

২০০৯ সালে শতভাগ পাশকৃত কলেজের সংখ্যা ছিল ৪টি, ২০১০ সালে ৫টি, ২০১১ সালে ৬টি, ২০১২ সালে ১২টি, ২০১৩ সালে ৮টি, ২০১৪ সালে শতভাগ পাসকৃত কলেজের সংখ্যা ১৭টি এবং ২০১৫ সালে শতভাগ পাসকৃত কলেজের সংখ্যা ২২টি। আর ২০০৯ সালে শতভাগ অকৃতকার্য কলেজেল সংখ্যা ছিল ৮টি, ২০১০ সালে ৫টি, ২০১১ সালে ৭টি, ২০১২ সালে ৫টি, ২০১৩ সালে ৭টি, ২০১৪ সালে ৭টি, ২০১৫ সালে ২২টি, ২০১৬ সালে ১১টি এবং ২০১৭ সালে শতভাগ পাশকৃত কলেজের সংখ্যা ১১টি।

অপরদিকে শূন্য ফলাফল কলেজের সংখ্যা ছিল ২০১০ সালে ৫টি, ২০১১ সালে ৭টি, ২০১২ সালে ৫টি, ২০১৩ সালে ৭টি, ২০১৪ সালে ৭টি, ২০১৫ সালে ৫টি, ২০১৬ সালে ৮টি এবং ২০১৭ সালে ১৬টি।

উল্লেখ্য, এবারে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ১৮৯টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৮টি জেলার ৬৩৩টি কলেজ পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে।

ফলাফল প্রকাশ করে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. তোফাজ্জুর রহমান বলেন, বিগত বছরের তুলনায় এবার ফলাফল তুলনামূলকভাবে খারাপ হয়েছে। প্রতিটি বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নপত্র হওয়ায় বিশেষ করে গণিতে সৃজনশীল প্রশ্নপতের কারণে ফলাফল খারাপ হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্লাশ না করে কোচিং সেন্টারের দিকে ঝুঁকে পড়ায় ফলাফল খারাপ হওয়ার আরেকটি কারণ বলে জানান তিনি। তবে আগামীতে আরো ভাল ফলাফল উপহার দিতে উপস্থিত সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

ফলাফল ঘোষনা করার সময় দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক মো. ফারাজ উদ্দীন তালুকদার, উপ-সচিব ড. আব্দুর রাজ্জাক, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. হারুনুর রশিদ, মো. মানিক হোসেন, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. রাকিবুল ইসলাম, বিদ্যালয় পরিদর্শক রবীন্দ্র নারায়ন ভট্টাচার্য, কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মওদুদ-উল-করিম বাবুসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, দিনাজপুরে শিক্ষাবোর্ড প্রতিষ্ঠার পর এটি এ বোর্ডের অধীনে নবম বারের মত এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য