আল-আকসা মসজিদের প্রবেশাধিকার নিয়ে চলমান ইসরায়েল-ফিলিস্তিন উত্তেজনা আরও জোরালো হয়েছে। জেরুজালেম এবং পশ্চিমতীরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে দখলদার ইসরায়েল। ভারি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সেনাবাহিনীকে পাথর ছুঁড়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী মানুষ। শুক্রবারের সংঘর্ষে দুই পক্ষের ৬ জন নিহত হওয়ার পর শনিবার পশ্চিমতীর এবং জেরুজালেমে পৃথক দুই ঘটনায় আরও দুই ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। উত্তেজনা প্রশমনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এবং কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবর থেকে এসব কথা জানা গেছে।

আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে তিন আরব-ইসরায়েলির হাতে দুই পুলিশ খুন হওয়ার পর ইসরায়েলি বাহিনী ধাওয়া করে হত্যা করে তিন হামলাকারীকেই। মসজিদের প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টরসহ আরোপিত হয় বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ। ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণের বিপরীতে চলতে থাকে ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদ। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় থেকে নিষিদ্ধ হয় ৫০ বছরের কম বয়সী মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার। পথকেই জায়নামাজ বানিয়ে নেয় ফিলিস্তিনি মুসলিমরা। জেরুজালেম আর পশ্চিমতীর উত্তাল হয়ে ওঠে মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর তাদের রবিবারের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি বাহিনী অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে।

শনিবার বিক্ষোভরত ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালায় ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী। আল জাজিরার খবর থেকে জানা যায়, এদিনের বিক্ষোভ চলাকালে আরও ২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে পূর্ব জেরুজালেমে বিক্ষোভ চলাকালে ইসরায়েলি পুলিশের গুলিতে আহত ১৭ বছর বয়সী তরুণ ওদয় নাওয়াজা আর বেঁচে নেই। আর ইসরায়েলি বাহিনীকে পেট্রোল বোমা ছুঁড়তে গিয়ে তা বিস্ফোরণ হওয়ায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ বছর বয়সী তরুণ আবু ডিস। সবমিলে গত ২দিনের সংঘর্ষে নিহত ফিলস্তিনির সংখ্যা দাঁড়ালো ৫ জনে। শুক্রবার প্রাণহানি হয় ৩ ফিলিস্তিনির। পূর্ব জেরুজালেমের রাস আল-আমুদের কাছাকাছি ইসরায়েলি এক বসতি স্থাপনকারী হত্যা করে ১৮ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি তরুণকে। আল-আকসা এলাকার বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে নিহত হন দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন তৃতীয়জন।

সিএনএন-এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, আল-আকসা মসজিদকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট তীব্র উত্তেজনা নিরসনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে মিশর, ফ্রান্স ও সুইডেন। ওই সংস্থায় নিযুক্ত সুইডিশ কূটনীতিক কার্ল স্কাউ এ খবর জানিয়ে বলেছেন, জেরুজালেমে উত্তেজনা অবিলম্বে কমিয়ে আনার উপায় নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের উচিত জরুরি আলোচনায় মিলিত হওয়া। আগামীকাল (সোমবার) রুদ্ধদ্বার কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৬৭ সালে যখন ইসরায়েল এই এলাকায় প্রবেশাধিকার পায় তখন শুধু মুসলিমরাই আল-আকসায় নামাজ পড়তে পারতো। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় প্রার্থনার সুযোগ পেত ইহুদীরা। মেনে চলতে হতো অনেক নিয়ম। বিগত ৫০ বছরে এই চিত্র অনেকটাই পাল্টে গেছে। আর ইসরায়েল এখন আল-আকসার দখল নিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় রেড ক্রিসেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে পুলিশি অ্যাকশনে সাড়ে চারশ মানুষ আহত হয়েছে। অন্যান্য সংবাদমাধ্যমসূত্রে পশ্চিম তীরেও প্রায় ২শ ফিলিস্তিনর আহত হওয়ার খবর জানা গেছে। তিন ফিলিস্তিনিকে হত্যার পর ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য