ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলন চালাতে প্রতিবেশি দেশের মাওবাদীদের সাহায্য নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানকার আন্দোলনকারী মোর্চা নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দলীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে মাওবাদীদের ভাড়া করা হয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস, পুলিশ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের উপর হামলা প্রশিক্ষিত মোর্চা সদস্যদের মূল টার্গেট হতে পারে বলে গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) অনুজ শর্মা জানিয়েছেন।

আজ (রোববার) গণমাধ্যমে প্রকাশ, নাম গোপন রাখার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা তাদের ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য ২৫/৩০ জন মাওবাদীকে ভাড়া করা হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে মোর্চা প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র মজুত করেছে। দার্জিলিংয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে সশস্ত্র আন্দোলন করার প্রস্তুতি চলছে।’

অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, সরকার যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে দার্জিলিংয়ে গত ৩৮ দিন ধরে অনির্দিষ্টকালের জন্য হরতাল-ধর্মঘটে পুলিশ থানা, সরকারি ভবন, পঞ্চায়েত ভবন, রেল স্টেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভাঙচুর ও আগুন ধরানোর ঘটনা ঘটেছে।

গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনে মাওবাদীদের সাহায্য নেয়া প্রসঙ্গে পুলিশের দাবিকে অস্বীকার করেছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার মহাসচিব রোশন গিরি। তিনি এক বিবৃতিতে ওই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, তাদের ইমেজ নষ্ট করতে ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে ব্যর্থ করার লক্ষ্যে ওই বিবৃতি দেয়া হয়েছে।

এদিকে, গতকাল শনিবার দিবাগত গভীর রাতে পুলিশ কর্মকর্তা অচিন্ত্য গুপ্তর নেতৃত্বে ভক্তিনগর থানার পুলিশ শিলিগুড়িতে এক নেপালি নিউজ় চ্যানেলের দপ্তরে হানা দিয়ে দপ্তর ‘সিল’ করে দিয়েছে। দার্জিলিং জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে।

এবিএন নামে নেপালি স্যাটেলাইট চ্যানেলটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, নিউজ় চ্যানেলের পাশাপাশি ফেসবুক পেজেও পাহাড়ে আন্দোলনের বিদ্বেষমূলক নানা খবর শেয়ার করা হোত। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার নীরজ সিং বলেন, সংবাদ চ্যানেলটির দফতর ‘সিল’ করে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। চ্যানেলটিতে দার্জিলিংয়ে মোর্চার আন্দোলন নিয়ে খবর দেখানো হচ্ছিল।

এদিকে, গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে সমস্যার সমাধান হবে না বলে আজ শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্য মন্তব্য করেছেন। কংগ্রেস বিধায়ক শংকর মালাকার, জন আন্দোলন পার্টির নেতা হরকা বাহাদুর ছেত্রী ও বিজেপি নেতা অভিজিৎ রায়চৌধুরি রাজ্য সরকারের ওই পদক্ষেপের নিন্দা করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য