মোঃ ইউসুফ আলী, আটোয়ারী (পঞ্চগড়) থেকেঃ পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে ইট ভাটা স্থাপনের কাজ চলছে দেদারসে। কর্তৃপক্ষের নেই কোন নজর দারি। ইট ভাটার মালিকরা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় পরিবেশ দূষণের শিকার ব্যক্তিবর্গ এক প্রকার নিরাশ হয়ে পড়েছেন। বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে।

অতি সম্প্রতি বলরামপুর ইউনিয়নের সাতখামার গ্রামের মোঃ খাদেমুল ইসলাম এবং এলাকার সচেতন কৃষক ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিরা এমনি পৃথক পৃথক অভিযোগ করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সহ জেলা উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা বরাবরে। অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের কুড়–লিয়া মৌজায় প্রভাবশালী মহল কর্তৃক ২ টি ইট ভাটা স্থাপনের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করেছেন। ইট ভাটা দুটির নাম (১) এম আর বি ( রাজু) বাবু ও (২) ডি কে বি (দিলু ও খালেক) ।

উক্ত ইট ভাটা দুটি বিশ একর জমির উপর স্থাপিত হয়েছে। ফলে আশ পাশের ৫০০ একর জমির ফসল বিনষ্ট, লিচু বাগান, গাছ-পালা ও ফলজ গাছ নষ্ট হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত শিশু সহ সকলের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশংকা অভিযোগকারীর। লীলারমেলা বাজারের পান-সুপারী বিক্রেতা গণপিটিশনে স্বাক্ষরকারী ইসমাইল হোসেন আবেগ আপ্লুত কন্ঠে বলেন, নতুন ইট ভাটার সাথে আমার দুই বিঘা জমি আছে। পান-সুপারীর দোকান আর দুই বিঘা জমিই আমার সম্বল।

ভাটার কাজ শুরু হলে আমি আর সেই জমি আবাদ করতে পারবো না। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আজিজার রহমান বলেন, যে জমিতে ইট ভাটা স্থাপনের কাজ চলছে সে সমস্ত জমিতে বছরে ৩/৪টি ফসল উৎপন্ন হয়। বিশাল এলাকা জুড়ে দু’টি ইটভাটার কাজ চললে একদিকে কৃষি উৎপাদন ব্যহত হবে অন্যদিকে ইট ভাটার আশপাশে পরিবেশ দুষিত হয়ে বহুমুখি অপুরনীয় ক্ষতির আশংকা রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার শামীম ইকবাল বলেন, আমার হাতে অভিযোগ এসেছে, কোন আবাদী জমিতে ইট ভাটা করার সুপারিশ দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব না।

ইট ভাটা মালিক সমিতির সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, প্রয়োজনে ইট ভাটা নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকার বর্তমানে ব্যাপক উন্নয়ন মুলক কাজ করছে, বিল্ডিং নির্মাণ সহ রাস্তাঘাট নির্মাণে ব্যাপক ইটের প্রয়োজন । আটোয়ারীতে বর্তমানে আটটি ভাটা থাকার পরো প্রয়োজনীয় ইট সরবরাহ করতে না পারার কারনে আরো ভাটা স্থাপন করা হচ্ছে। উপজেলার বলরামপুরে নতুন ইটভাটা স্থাপনের বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য