সংবাদ সম্মেলনঃ আমি মন্ত্রীর ভাই,প্রশাসন,পুলিশ সবাই আমার হাতে, তোমরা বাড়িঘর ভাঙ্গিয়া চুরমার করে দাও। কেউ বাধা দিতে আসলে সালাদের শেষ করিয়া দাও। এভাবেই সন্ত্রাসীদের ন্যাক্কারজনক এক সন্ত্রাসী হামলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রাথমিক ও গনশিক্ষামন্ত্রী’র ছোট ভাই মোহাম্মদ হোসেন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত।

প্রাথমিক ও গনশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের ভাই মোহাম্মদ হোসেনের সশস্ত্র তান্ডবে এক অসহায় পরিবার ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছে। মন্ত্রীর ক্ষমতার দাপটে তার ভাই স্থানীয় পুলিশের উপর প্রভাব খাটিয়ে সন্ত্রাসীদেও দ্বারা হামলা করে আহত করেছে ওই পরিবারের কর্তা তরিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রীকে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপরোক্ত অবিযোগ করেছেন ফুলবাড়ি উপজেলার উত্তর সুজাপুর গ্রামের মৃত তপছের রহমানের পুত্র মোঃ আলমগীর হোসেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, উল্লেখিত গ্রামের ৮২৭ নং খতিয়ানের ২৭৬ নং দাগে পৈত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত ২৬ শতক জায়গা বসতবাড়ি নির্মান করে তারা ৩ ভাই পাকিস্তান আমল থেকে বসবাস করে আসছেন। হঠাৎ করে কিছুদিন যাবৎ মন্ত্রীর ভাই মোহাম্মদ হোসেনের কুনজরে পড়েছে ওই সম্পত্তি। সম্পত্তিটি দখলে নেয়ার জন্যে সে মরিয়া হয়ে উঠে পড়ে লেগেছে,এব্যাপরে পুলিশের নিকট থানায় অভিযোগ করতে গিয়েও কোন ফল হয়নি। পরবর্তীতে জমি রক্ষার জন্যে আমরা ৩ ভাই বাদী হয়ে ফুলবাড়ি সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেছি যার নং ৩০/১৭ অন্য।

সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, গত ২৫ জুন মোহাম্মদ হোসেনের নির্যাতন, হামলা ও জমি দখল চেষ্টার ব্যাপারে বিস্তারিত বিষয় মন্ত্রী মহোদয়কে জানানো হলেও কোন কাজে আসেনি। বরঞ্চ মন্ত্রীর ভাই মোহাম্মদ হোসেন স্থানীয় সন্ত্রাসী মাজেদুরসহ ২০/২২ জন সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে গত ১৯ জুলাই আমাদের বাসায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করেছে। এই হামলায় তারা আমাকে ও আমার ভাই মোঃ তরিকুল ইসলাম, তার স্ত্রীকে নির্দয়ভাবে কুপিয়েছে। বর্তমানে তারা দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনার সময় ফুলবাড়ি থানা পুলিশের এসআই পিন্টুর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও আমাদের রক্ষায় তারা কেউ এগিয়ে আসেনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আলমগীরের বড় বোন ছায়মা কানিজ বলেন,মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে তার দু’ভাই মোহাম্মদ হোসেন ও মোঃ ছব্বুর আলী দিনের পর দিন নির্যাতন করছে তাকে ঠেকানোর কেউ নেই। হামলার সময় মোহাম্মদ হোসেন বলেছে আমি মন্ত্রীর ভাই এখানে আমার কোথায় সব হবে। আমি পুলিশকে জা বলবো পুলিশ তাই করবে। ছায়মা কানিজ বলেন,মোহামদ হোসেনের নির্দেশে পুলিশের এস আই পিন্টুসহ পুলিশেরা হামলকারীদের গ্রেফতার না করে আমার ভাই তহিদুল ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ক্রনদনরত ছায়মা বেগম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহায্য-সহযোগীতা কামনা করে বলেন,ফুলবাড়ির সাধারন মানুষকে বাঁচাতে হলে আপনার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন অনথ্যায় ধিরে ধিরে সবাই শেষ হয়ে যাবে।

মন্ত্রীর সন্ত্রাসী ভাইয়ের বিচার ও শাস্তি দাবী করে তিনি বলেন আপনারা আমাদের বাচান আমরা নিজ বাড়িতেই যেতে পারছিনা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুত্বর আহত মোঃ আলমগীর হোসেন। এসময় তার সাথে ছিলেন বোন ছায়মা কানিজ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য