দিনাজপুর সংবাদাতাঃ ১৯ জুলাই বুধবার দিনাজপুর সদর উপজেলা পরিষদ হল রুমে আরডিআরএস বাংলাদেশ দিনাজপুর ইউনিট আয়োজিত এসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন এর সহযোগিতায় এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন-২০০২ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় এসিড বিক্রেতা ও ব্যবহারকারীদের মধ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, এসিড সহিংসতার ভয়াবহতা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। লাইসেন্স বিহিনী এসিড বিক্রয় ও ব্যবহার রোধ করতে সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন। এসিডের অবৈধ ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে।

সর্বোপরি এসিড নিয়ন্ত্রণ আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্প বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আরডিআরএস বাংলাদেশ দিনাজপুর ইউনিটের কর্মসূচী ব্যবস্থাপক তপন কুমার সাহা জানান দিনাজপুর জেলায় মোট লাইসেন্স ধারী এসিড বিক্রেতা, পরিবহনকারী এবং ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬৪জন। সদর উপজেলায় মোট এসিড বিক্রেতা, পরিবহনকারী এবং ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৭৮ জন।

তার মধ্যে জুয়েলারী ব্যবসায়ী ১৪৯, ব্যটারী ব্যবসায়ী ২১ জন, এসিড বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ৩ জন ও স্কুল / কলেজ এসিড ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫টি এবং সদর উপজেলায় লাইসেন্সধারী এসিড বিক্রেতা, পরিবহনকারী এবং ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৪জন। দিনাজপুর জেলার প্রেক্ষাপটে এসিড সহিংসতার কারণ সমূহ হলো জমি সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক কলহ, প্রতিসিংহা চরিতার্থ, প্রেম প্রস্তাব প্রখ্যান এবং যৌন সংক্রান্ত।

১৯৯৯ ইং সাল হতে ২০১৬ ইং সাল পর্যন্ত এসিড সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৯২টি। তার মধ্যে পুরুষ ২৪, নারী ৫১, শিশু ২১। তবে ২০১৪-১৫ সালের পর থেকে দিনাজপুর জেলায় এসিড সহিংসতার কোন ঘটনা ঘটেনি। অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনের উপরে বক্তব্য রাখেন জেলা ব্র্যাক প্রতিনিধি মোঃ মহসিন আলী, অনুঘটক সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোঃ আনারুল ইসলাম বাবলু, এইড কুমিল্লার সমন্বয়কারী মোঃ দেলোয়ার হোসেন, পল্লী শ্রী’র প্রজেক্ট ম্যানেজার রওনক আরা হক রিপা, এমবিএসকে’র মোর্শেদা পারভীন মৌলি, বাংলাদেশ জুয়েলার্স মালিক সমিতি দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মোফাজ্জল হোসেন। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য