মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভাবকী ইউনিয়নের মারগাঁও গ্রামের আজগার আলীর ৭ সদস্যের পরিবার দীর্ঘ ১৫ দিনের বেশী সময় ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন। প্রতিপক্ষ বাঁশের বেড়া দিয়ে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় ভ্যানচালকের ওই পরিবারের সদস্যরা অবরুদ্ধ হয়েছে পড়েছেন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের আদেশে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সুরাহা করতে না পারায় ওই পরিবারটি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বুধবার ১৯ জুলাই পর্যন্ত পরিবারটি অবরুদ্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভাবকি ইউনিয়নের মারগাঁও গ্রামের নিজামুদ্দিন হাজী পাড়ায় স্ত্রী, দুই পুত্র ও তিন কন্যা সন্তানকে নিয়ে বাস করেন ভ্যানচালক আজগার আলী। প্রায় ১০ বছর ধরে প্রতিবেশী আব্দুল জলিলের দেয়া রাস্তার ওপর দিয়ে চলাচল করতেন তারা। সম্প্রতি পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে ওই রাস্তা বন্ধ করে দেয় জমির মালিক আব্দুল জলিল। এতে ওই পরিবারটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

অবরুদ্ধ পরিবারের সদস্যরা জানায়, তাদের পরিবারটির সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতে রাতের আঁধারে পুকুরে সাঁতার দিয়ে গোপনে বাড়ীতে আসা-যাওয়া করে গৃহকর্তা আজগার আলী। বিষয়টি প্রতিপক্ষ টের পেয়ে ওই পুকুরে কাঁটাযুক্ত গাছের ডালপালা দিয়ে সেই পথও বন্ধ করে দিয়েছে। অবরুদ্ধ আজগর আলীর বড় মেয়ে আরজিনা (১৭) প্রতিবন্ধী। সে বাড়ীর বাইরে যেতে না পারায় অস্থির করে তুলেছে পরিবারের অন্য সদস্যদের। আজগার আলীর কন্যা রাশেদা পার্শ্ববর্তী কুমুড়িয়া বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী। সে চলতি অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার প্রথম দিনে বেড়া ডিঙ্গিয়ে স্কুলে যেতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হাতে মারধরের শিকার হয়।

তার পরও বাধা উপেক্ষা করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে স্কুলের শিক্ষক আসলাম হোসেন রাশেদাকে ওই শিক্ষক তার বাড়ীতে নিয়ে যান এবং সেখান থেকে পরবর্তী কয়েকটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে রাশেদা। একদিন রাতের বেলায় চুপিসারে নিজ বাড়ীতে ফিরে আসে রাশেদা। পরেরদিন তাকে আর বের হতে না দেয়ায় ওই দিনের পরীক্ষায় সে অংশগ্রহণ করতে পারেনি।
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে কাঁন্নাজড়িত কন্ঠে রাশেদা জানায়, সে পরীক্ষা দিতে চায় আর সবার মতো স্কুলে যেতে চায়। তারা অবরুদ্ধ জীবনযাপনের অবসান চায়। প্রতিবন্ধী বড় বোনের অবস্থার কথা উল্লেখ করে রাশেদা জানান, দেশে এমন কোন মানুষ কি নেই- যারা আমাদেরকে রক্ষা করবে।

ভ্যানচালকের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ দিয়েছিলাম। পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাহেব এসেছিলেন, কিন্তু কোন সমাধান হয়নি। তারা চলে যাওয়ার পর অভিযোগ দেয়ার কারণে আব্দুল জলিলের লোকজন আমাদেরকে লাঞ্চিত করেছে। তিনি আরো বলেন, ভয়ে এখন ঘরের বাইরে য়েতে পারছিনা। রাতের বেলায় ছেলে-মেয়েদের নিয়ে জেগে জেগে রাত পর পাড় করতে হয়।

এ ব্যাপারে খানসামা থানার এএসআই দুলাল মিয়া জানান, কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রাথমিক তদন্তে গিয়ে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। পরিবারটি অবরুদ্ধ রয়েছে। ভ্যানচালকের পরিবারটি যে পথ দিয়ে চলাচল করতো তা মালিকানাধীন। ইতিপূর্বে মালিকানাধীন ওই জমির ওপর দিয়ে তারা চলাচল করতো। কিন্তু ভ্যানচালকের পরিবারের সাথে জমির মালিকের দ্বন্দ্বের কারণে ওই পথ বন্ধ করে দেয়।

ভাবকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গরীব পরিবারটিকে চলাচলের অনুমতি দেয়ার জন্য জমির মালিকদের অনুরোধ করেছি কিন্তু তারা রাজি হননি। এক বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য