আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের পূর্ব চন্ডিপুর মালভাঙ্গাপাড়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এক সংঘর্ষের ঘটনায় শহিদুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত ও ৬ জন আহত হয়। নিহত শহিদুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ প্রতিপক্ষ বাবলুর মা ও মেয়েকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক তার লোকজন নিয়ে একটি বিরোধপূর্ণ জমিতে হাল দিতে যায়। এসময় প্রতিপক্ষ বাবলু মিয়া তার লোকজনসহ লাঠিসোটা ও ধারাল অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ওই জমিতে যায়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বাবলু মিয়া ও তার লোকজন আব্দুর রাজ্জাককে মারপিট করতে থাকে।

এসময় আব্দুর রাজ্জাকের খালু শহিদুল ইসলাম রাজ্জাককে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে বাবলু মিয়া লাঠিসোটা ও ধারাল অস্ত্র নিয়ে তার উপরেও হামলা চালায়। ওই ঘটনায় সিরাজুল ইসলাম, শরীফা বেগম, সৌরভ মিয়া ও গোলাপী বেগমসহ ৬ জন গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা শহিদুল ইসলামসহ আহতদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করায়। এরমধ্যে শহিদুল ইসলাম ও গোলাপী বেগমের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে চিকিৎসকরা তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। পথে অ্যাম্বুলেন্সে শহিদুল মারা যায়।

শহিদুলের মৃত্যুর খবরে উত্তেজিত জনতা সন্ধ্যার পর বাবলুসহ ৫-৬ জনের বাড়ি ভাংচুর করে। বুধবার আবারও স্থানীয় লোকজন ওইসব বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে মালামালসহ বাড়ি ভস্মিভুত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে বাবলুর মা রহিমা বেগম ও বোন কোহিনুর বেগমকে গ্রেফতার করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে।

এব্যাপারে সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিয়ার রহমান জানান, নিহত শহিদুল ইসলামের ভাতিজা আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে বুধবার সুন্দরগঞ্জ থানায় ৩৩ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য