ফিলিপিন্সের মিন্দানাও দ্বীপে মাওবাদী বিদ্রোহীদের হামলায় প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি গ্রুপের (পিএসজি) পাঁচ সৈন্য আহত হয়েছেন।

দ্বীপটির দক্ষিণে নর্থ কোটাবাটো প্রদেশের এক চেক পয়েন্টে সেনা ছদ্মবেশে থাকা ডজনের ওপর মাওবাদী গেরিলার সঙ্গে পিএসজি-র এ গোলাগুলি হয় বলে বুধবার জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

হামলার সময় ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট রদরিগো দুতার্তে ওই অঞ্চলে ছিলেন না বলে জানিয়েছে পিএসজি।

এক সংবাদ সম্মেলনে পিএসজির কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল লুই দাগোয় বলেন, “দুটি গাড়িতে থাকা আমাদের বাহিনীর চার সদস্য গুলিতে আহত হয়েছেন।”

হামলার পর মাওবাদী বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিউ পিপলস আর্মির (এনপিএ) গেরিলারা পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন তিনি।

সাধারণত প্রেসিডেন্টের ভ্রমণের আগে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পিএসজির অগ্রবর্তী সদস্যদের সেখানে নিয়োজিত করা হয়।

অবশ্য দাগোয় জানিয়েছেন, মিন্দানাও দ্বীপে দুতার্তের কোনো ভ্রমণ পরিকল্পনা নেই, হামলার শিকার সেনারা সেখানে অন্য কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

পুলিশ এবং সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার স্বীকার পিএসজি সদস্যরা সাদা পোশাকে ছিলেন, তাদের বহনকারী গাড়িও চেনার উপায় ছিল না। এ কারণে গেরিলাদের হামলাকে পূর্ব পরিকল্পিত নয় বলেই মনে করছেন তারা।

মাওবাদী গেরিলা ও সরকারি বাহিনীগুলোর মধ্যে প্রায় ৫০ বছর ধরে চলা সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

রক্তক্ষয়ী এই হানাহানি বন্ধে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা স্থবির হয়ে আছে। আলোচনা আবার শুরু করতে চলতি সপ্তাহের শেষে নেদারল্যান্ডে দুপক্ষের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

কিন্তু এই ঘটনা মাওবাদীদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) সঙ্গে সরকারের শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

দুই কোটি ২০ লাখ বাসিন্দার মিন্দানাও দ্বীপে ফিলিপিন্সের সেনাবাহিনীকে বেশ কয়েকটি ফ্রন্টে যুদ্ধ করতে হচ্ছে।

মাওবাদীদের ছাড়াও সরকারি বাহিনীকে ৫৮ দিন ধরে দ্বীপটির মারাউয়ি শহরের কেন্দ্র দখল করে থাকা আইএস সমর্থক ইসলামি জঙ্গীদের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি দ্বীপের পশ্চিমাংশে অপহরণ ও দস্যুতার জন্য কুখ্যাত আবু সায়াফ বাহিনীর বিরুদ্ধেও অভিযান চালাতে হচ্ছে।

মিন্দানাও দ্বীপে জরুরি অবস্থা এই বছরের শেষ পর্যন্ত বর্ধিত করতে দুতার্তে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে অনুরোধ জানানোর একদিন পর গোলাগুলির এই ঘটনা ঘটলো।

মঙ্গলবার দুতার্তে সরকার পক্ষের নেদারল্যান্ডগামী আলোচকদের সঙ্গে দেখা করেন।

এসময় যতক্ষণ পর্যন্ত এনপিএ গেরিলারা সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা বন্ধ না করে ততক্ষণ পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক কোনো যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হতে আলোচক দলকে নির্দেশ দেন তিনি। গেরিলাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে মাওবাদী রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য