গত মাসে সৈন্য, তাদের পরিবারের সদস্য ও ক্রুসহ ১২২ জন আরোহী নিয়ে আন্দামান সাগরে বিধ্বস্ত মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিমানটি ‘খারাপ আবহাওয়ার’ শিকার হয়েছিল বলে সিদ্ধান্ত তদন্তকারীদের। বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, তদন্তকারীরা মনে করছেন, চীনে তৈরি ওয়াই-৮-২০০এফ মডেলের ওই পরিবহন বিমানটি ‘খারাপ আবহাওয়ার’ কারণে থেমে গিয়ে খাড়াভাবে নিচে সাগরে পড়ে যায়।

গত ৭ জুলাই সাপ্তাহিক ফ্লাইটে মিয়ানমারের উপকূলীয় কয়েকটি শহর থেকে আরোহীদের নিয়ে বিমানটি দেশটির বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়েছিল। এরপর বড় ধরনের একটি তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করার পর সাগর থেকে বিমানটির অন্তত ৮৩ জন যাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, জীবিত কাউকে পাওয়া যায়নি।

এর আগে ‘বড় ধরনের মেঘের কারণে’ এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করেছিল মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। ওই সময় মিয়ানমারের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা ও অস্ট্রেলীয় বিমান বাহিনীর বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত দল গঠন করে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছিল।

মিয়ানমারের রাষ্ট্র-পরিচালিত গণমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞরা আবহাওয়া প্রতিবেদন ও বিধ্বস্ত বিমানটির লেজের অংশ থেকে পাওয়া ‘ব্ল্যাক বক্স’ এর তথ্য বিশ্লেষণ করেন। তদন্তকারীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, বিমানটি দেড় ঘন্টারও কিছু বেশি সময় ধরে চলার পর ঘন মেঘে প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় ইঞ্জিনে প্রবেশ করা বাতাসে বরফের অস্তিত্বও শনাক্ত হয়।

ঠিক ওই মূহুর্তে একপাশ থেকে হঠাৎ জোরালো বাতাস এসে বিমানটিকে ধাক্কা দেয় বলে জানিয়েছে সংবাদপত্রটি। “তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে বিমানটি থেমে যায় অথবা ভেসে থাকার ক্ষমতা হারায়, তারপর বাতাসের ধাক্কায় ঘুরতে শুরু করে এবং নাক বরাবর পড়তে শুরু করে। পাইলট আর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাননি।” কোনো নাশকতা, বিস্ফোরণ বা ইঞ্জিনের অকার্যকারিতার সম্ভাবনা তদন্তকারীরা বাতিল করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংবাদপত্রটি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য