দীর্ঘদিনের মানুষের দাবী আত্রাই নদীর উপর একটি সেতু নির্মিত হলেই দিনাজপুরের বীরগঞ্জ,খানসামাসহ ঠাকুরগাও ও নীলফামারী জেলার মধ্যে সেতু বন্ধনের দ্বার উন্মোচন হতে পারে। কিন্তু আজও সেতু নির্মাণ হয়নি।

বরং বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মওসুমে বাশেঁর সাকোঁই হচ্ছে এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের ভরসা। আত্রাই নদীতে সেতু না থাকায় বাশের সাকো কিংবা বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়ে পারাপার হতে লক্ষাধিক মানুষের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়।

বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে প্রবল স্রোতের মধ্যে খেয়া নৌকায় জীবনের ঝুকি নিয়ে সকলকে পার হতে হয়। এসময় প্রায় নৌকাডুবিরও ঘটনা ঘটে।

অথচ সেতু নির্মাণ হলে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ,খানসামাসহ দিনাজপুরের বীরগঞ্জ,খানসামা, ঠাকুরগাঁও গড়েয়া হাট, নীলফামারী সদর উপজলোর নীলসাগর দীঘি, ভবানীগঞ্জ হাট এর মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি ওই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ সরাসরি আসা-যাওয়া করতে পারবেন। এতে সহজ এ হয়ে উঠবে শিক্ষা, চিকিৎসা, বানিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন।

দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজলোর শতগ্রাম ইউনিয়নের ঝাড়বাড়ী চৌরাস্তা মোড় থেকে আত্রাই নদী পার হয়ে র্পূব দক্ষিণে নীলফামারী ১৭ কি.মি, আর আত্রাই নদীর পশ্চিমে ঠাকুরগাঁও ২২ কি.মি। স্থানীয় বলদিয়া পাড়া গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি সপ্তাহে দুইদিন ভবানীগঞ্জ হাট করি। এতে করে রাতের বেলায় সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়।

ভবানীগঞ্জের আলু ব্যবসায়ী রহিমুল ইসলাম বলেন, রবিবার ও বুধবার গড়েয়া হাট করি। তবে বর্ষার সময় রাতে ঘাটে নৌকা পাওয়া কষ্টকর হয়ে যায়।

ঝাড়বাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক তাসমিন আল বারী সাংবাদিকদের বলেন, ঠাকুরগাও জেলা শহর থেকে ঝাড়বাড়ী হয়ে নদীর জয়গঞ্জ ঘাট দিয়ে নীলফামারী জেলার সাথে ব্রিটিস আমল থেকেই যোগাযোগ ছিল। এ কারণেই উভয়দিকের রাস্তাটিও অনেক প্রসস্থ। এ এলাকায় বর্তমানে নীলসাগর নামে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। তবে সেতু নির্মান হলে নদীর দু-পারের হাজার হাজার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের পাশাপাশি যোগাযোগসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নের ব্যাপক উন্নতি সাধিত হবে।

খানসামার আলোকঝাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আ স ম আতাউর রহমান বলেন, এই জয়গঞ্জ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পারাপার হয়্। এখানে সেতু নির্মিত হলে এ অঞ্চলের বড় বড় হাটগুলোর পন্যসামগ্রী সহজে অন্যত্র যেতে পারবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য