আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট থেকে: লালমনিরহাট সদর উপজেলার দু’টি সরকারি আবাসনে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। জায়গায় জায়গায় রাস্তাটি ভেঙে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক সময় রাস্তাটি পানিতে ডুবে থাকে। এতে শিশু শিক্ষার্থীদের কাদা জলে ভিজে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রাস্তাটি মেরামতে কোনও নজর না দেওয়ায় এবার অভিনব প্রতিবাদ জানালো ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।

ভাঙা রাস্তায় হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি রাস্তাটি দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছে তারা।রোববার (১৬ জুলাই) দুপুরে সাপটানা আবাসন-১ ও আবাসন-২ এর শিক্ষার্থীরা তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ভাঙা রাস্তাটি মেরামতের দাবিতে পানিতে দাঁড়িয়ে এই প্রতিবাদ জানায়। তাদের পাশাপাশি এলাকাবাসীও ভাঙা রাস্তাটি মেরামতের জন্য লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পুলিশ সুপার, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রেসক্লাব বরাবর লিখিত আবেদন করেন। ওই দু’টি সরকারি আবাসনে ৩১০টি পরিবার বসবাস করে। এখানকার শিশুরা পার্শ্ববর্তী রামকৃষ্ণ মিশন এলাকার শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে।

শিক্ষার্থী সাদেকুল ইসলাম ও হাফিজা বেগম বলে, ‘আমরা অনেক কষ্ট করে স্কুলে যাই। অনেক সময় পিছলা খেয়ে পানিতেও পড়ে যাই। এভাবে কষ্ট করে স্কুলে যেতে হয়। এই কষ্ট সহ্য হয় না। এই জন্য আমরা আজ রাস্তাটি মেরামতের দাবিতে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ করছি। যেন দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করা হয়।’লালমনিরহাট রামকৃষ্ণ মিশন এলাকার শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহসেনা আখতার বলেন, ‘আজ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মা সমাবেশ ছিল। ওই সমাবেশে আবাসনের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মা বলেন, রাস্তাটি ভাঙা থাকায় শিক্ষার্থীরা অনেক সময় ভিজে কাদা পানি মাড়িয়ে স্কুলে আসতে চায় না। এ কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতিও কম হয়। বিষয়টি রেজুলেশনে উল্লেখ করে লালমনিরহাট সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করা হবে।’

লালমনিরহাট পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের কমিশনার হাসান কামাল ভূট্টু বলেন, ‘আবাসনের ভালো-মন্দ সবকিছুই দেখার দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার। রাস্তাটি পৌরসভার ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়েছে। রাস্তাটির দু’দিকের জমি নিচু হওয়ায় অনেকে বর্ষাকালে এসব জমিতে মাছ চাষ করে। তবে আরসিসি ঢালাই দিয়ে ড্রেনসহ রাস্তাটি নির্মাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’লালমনিরহাটের সাপটানা আবাসন-১ ও আবাসন-২ এর বসবাসকারী বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম ও মাসেম আলী বলেন, ‘কাদা পানিতে ভিজেই শিশুরা বিদ্যালয়ে যায়। দ্রুত রাস্তাটি মেরামতসহ আপাতত শিশুদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনে বাঁশের সাঁকো নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’ এ ব্যাপারে লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বরাদ্দ পাওয়া গেলে রাস্তাটির ভাঙা অংশ মেরামত করা হবে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য