আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে:‘এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম’ হিসেবে এক সময় খ্যাতি পাওয়া লালমনিরহাটের বিমানবন্দরটি এখন চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৪ যুগ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে জেলা সদর ও মহেন্দ্রনগরের মাঝামাঝি স্থানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এ বিমানবন্দর।

অথচ সরকারিভাবে বিমানবন্দরটি মেরামত এবং সংস্কার করে চালু করলেই পাল্টে যাবে উত্তরাঞ্চলের দৃশ্যপট। এতে করে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার যেমন ঘটবে তেমনি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে এ অঞ্চলের মানুষ। একই সঙ্গে বাড়বে সরকারের রাজস্ব আয়।জানা গেছে, বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে বাঁধ সেধেছে আকাশসীমা জটিলতা। এটি ভারত বাংলাদেশ সীমানার ৯ কিলোমিটারের মধ্যে পড়েছে।

বিমানবন্দরটি ব্যবহৃত হলে বাংলাদেশের বিমান ভারতের আকাশসীমা লঙ্ঘন করতে পারে এমন ভাবনা থেকে এটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। তাই বিমানবন্দরটি ব্যবহারের উপযোগী হলেও আইনী জটিলতার কারণে অবহেলায় পড়ে আছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভূটান সরকার বিমানবন্দরটি ব্যবহারের জন্য পছন্দ করেছে। তবে আকাশসীমা নিয়ে জটিলতার কারণে সেটা হচ্ছে না। তাই ভারত, বাংলাদেশ ও ভূটানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় একটি চুক্তি হলেই বন্দরটি ব্যবহার করা যাবে।

জানা গেছে, ১৯৩১ সালে তৎকালীন বৃটিশ সরকার লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ও হারাটি এলাকায় ১ হাজার ১৬৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে বিমানঘাটি নির্মাণ শুরু করে। ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থান থেকে রেলযোগে বড় বড় পাথর, বোল্ডার ও অন্যান্য সামগ্রী এনে দ্রুতগতিতে চলতে থাকে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রানওয়ে ও অবকাঠামোগত নির্মাণের কাজ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন এ বিমান ঘাঁটিই ছিল মিত্র বাহিনীর একমাত্র ভরসা। ১৯৪৫ সালে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর নতুন করে ব্যবহার না হওয়ায় জৌলুস হারাতে থাকে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এ বিমানবন্দরটি।

তবে ১৯৫৮ সালে স্বল্প পরিসরে পুনরায় বিমান সার্ভিস চালু হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে এটিকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হেডকোয়ার্টার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। একারণে ৪ কিলোমিটার রানওয়ে, বিশাল টারমাক, হ্যাংগার, ট্যাক্সিওয়ে এগুলো সবই এখন পরিত্যক্ত।পক্ষান্তরে ১৯৮৩ সালে বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষ এখানে কৃষি প্রকল্প গ্রহণ করে। সরকারি এই মূল্যবান স্থাপনাজুড়ে মিলিটারি ফার্মের তত্বাবধায়নে গড়ে তোলা হয়েছে গরুর খামার এবং সংরক্ষিত ভূমিগুলিতে চলছে কৃষি কাজ। রাখালেরা ওই জমিগুলোতে পশু চারণ করে।

বিমান বন্দরটি ব্যবহারের উপযোগী হলেও শুধুমাত্র ভারতীয় আকাশসীমা লংঘনের অজুহাতে অবহেলায় পড়ে রয়েছে।লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু এ প্রতিবেদকে বলেন, বিমান বন্দরটি চালু হলে এলাকার উন্নয়ন অনেকাংশে ত্বরান্বিত হবে।এফবিসিসিআই’র পরিচালক সিরাজুল হক এ প্রতিবেদকে বলেন, বিমানবন্দরটি চালু হলে এলাকার ব্যবসা বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য