ইসরায়েলি-ফিলিস্তিন উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে দুইদিন বন্ধ থাকার পর রবিবার (১৬ জুলাই) আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণকে আবারও উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। শনিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মসজিদটি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি ও পর্যটকদের জন্য মসজিদ প্রাঙ্গণটি ধীরে ধীরে প্রবেশযোগ্য হচ্ছে।

জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদের কাছে শুক্রবার (১৪ জুলাই) ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীদের সঙ্গে ইসরায়েলি পুলিশের সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনায় মসজিদ প্রাঙ্গণটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুক্রবার (১৪ জুলাই) সেখানে মুসল্লিরা জুমার নামাজও আদায়েরও সুযোগ পাননি।

এদিন ইসরায়েলি পুলিশের গুলিতে তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়। ইসরায়েলি পুলিশের দাবি, শুক্রবার (১৪ জুলাই) ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীরাই প্রথম তাদের ওপর গুলি চালায়। পরে তারা পাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে তিন বন্দুকধারীকে হত্যা করেছেন। বন্দুকধারীদের গুলিতে আহত তিন ইসরায়েলি পুলিশের দুইজন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।

ইসরায়েলি পুলিশের দাবিকে উদ্ধৃত করে আল-জাজিরা জানায়, শুক্রবার আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের কাছের একটি ফটকে পৌঁছায় তিন বন্দুকধারী। সেখান থেকে গুলি ছুড়ে মসজিদের দিকে পালিয়ে যায় তারা। সেখানে ইসরায়েলি পুলিশ তাদের গুলি করে হত্যা করে। জেরুজালেম থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি হ্যারি ফসেট জানান,“ওল্ড সিটির দুং গেটের কাছে ইসরায়েলি পুলিশের সঙ্গে ফিলিস্তিনিরা বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। আল-আকসা মসজিদের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মসজিদ চত্বরের ভেতরে দুই ফিলিস্তিনির মরদেহ ছিল।”

মসজিদটি বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে ক্ষোভ জানিয়ে শনিবার জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়োগকৃত গভর্নর আদনান হুসেইনি বলেন, ‘এটি নজিরবিহীন ঘটনা। অনেক বছর ধরে মসজিদটি বন্ধ হয়নি। পরিস্থিতি খুব ভয়াবহ। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতিকে অতিরঞ্জিত করার চেষ্টা করছে। আমরা এক সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকি এবং এখানে প্রায় প্রতিদিনই সহিংসতা হয়। চেকপয়েন্টগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই ফিলিস্তিনিদেরকে নির্দয়ভাবে হত্যা করা হচ্ছে।’
আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণটি একইসঙ্গে মুসলিম ও ইহুদিদের জন্য পবিত্র স্থান বলে বিবেচিত হয়। মুসলিমরা একে আল হারাম আল শরিফ নামে ডেকে থাকেন। আর ইহুদিরা এ স্থানটিকে টেম্পল মাউন্ট বলে থাকে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য