ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে চলমান সহিংস আন্দোলনজনিত ক্ষয়ক্ষতিতে আজ কোলকাতা হাইকোর্ট তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। সেখানকার পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অতিরিক্ত ৪ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফ পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এভাবে সময় বেধে দিয়ে শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশই নয়, পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে ব্যর্থ হলে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও আদালতের পক্ষ থেকে কার্যত হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার কোলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিশীথা মাত্রে ও বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর সমন্বিত বেঞ্চ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায় রাজনৈতিক কারণে পাহাড়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো মাথাব্যথা নেই। সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। রেশন দোকান বন্ধ, জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এরকম চলতে থাকলে মানুষ বাঁচবে কীভাবে?’

পাহাড়ে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে ‘গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা’র সহিংস গণআন্দোলন চলতে থাকায় সেখানে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বনধ-অবরোধে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার দিনভর পাহাড়ে বিভিন্নস্থানে তাণ্ডব চালানোর পর এদিন রাতেও বিভিন্ন জায়গায় মোর্চা সমর্থকরা আগুন ধরিয়ে দেয়। রাতে তারা পুড়িয়ে দিয়েছে বহু পুরোনো মিরিকের প্রেমচাঁদ লাইব্রেরি। এরফলে সেখানকার সমস্ত বই এবং আসবাবপত্র ছাই হয়ে গেছে। পুলবাজারে সেরিকালচার দপ্তর ও সুখিয়াপোখরিতে পুলিশ চেকপোস্টেও আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। কার্সিয়াংয়ে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের সদর দপ্তরেও আগুন ধরানোর চেষ্টা করে মোর্চা আশ্রিত দুর্বৃত্তরা।

গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা অবশ্য এসব ঘটনার দায় নিতে অস্বীকার করে পাহাড়ের মানুষ এসব করছেন বলে দাবি করেছে।

এদিকে, মোর্চার পূর্ব নির্ধারিত অনশন কর্মসূচি স্থগিত করে ১৮ জুলাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। আগামী ১৫ জুলাই থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন মোর্চা নেতারা। কিন্তু আপাতত সেখান থেকে পিছু হটেছে মোর্চা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য