Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
09 23 18

রবিবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১২ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী

Home - সম্পাদকীয় - শ্রদ্ধেয় আবুল কালাম আজাদ বিচার চাইতে গিয়ে মামলায়!

শ্রদ্ধেয় আবুল কালাম আজাদ বিচার চাইতে গিয়ে মামলায়!

লিখাটা গত ৭ জুলাই এর কিন্তু সময়ের অভাবে পোষ্ট করা হয় নি। আরও অনেক কিছু বলার ইচ্ছে ছিল।

App DinajpurNews Gif

মামলা মোকদ্দমা আর কারও অসুখের খবর আমার কাছে রিতিমত দুঃসংবাদ। কারও মামলা মোকদ্দমা সংক্রান্ত খবর শুনলে খারাপ লাগবে, এটা মানবতা বা মানসিকতার ব্যাপার। আর সেটা যদি হয় নিজের অথবা খুর প্রিয় কারও তাহলে তো কথাই নেই, একেবারে সরাসরি মগজে খচখচ করতে থাকে। আজ সেরকমই একজনের মামলার খবর শুনে মনটা যেন কেমন নিস্তেজ হয়ে গেছে। তিনি আমাদের প্রিয় চির তরুন আবুল কালাম আজাদ, সিনিয়ারদের আজাদ ভাই, তার রাজনৈতিক পরিচয় কমরেড আজাদ। আমাদের দিনাজপুর জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন, সাংস্কৃতিক অঙ্গন এবং জনসেবায় যার অগনিত অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। পরিচিত বা অপরিচিত কেউ যদি উনার কাছে ন্যায় সঙ্গত সহায়তার চাইতে যায়, তাকে খালি হাতে কোনদিনও ফিরতে দেখিনি। তা দেশে বসে হোক আর দেশের বাহির থেকে হোক। তেল মালিশ কারি চাটুকারে ভরা স্বার্থপর কঠিন যুগে দিনাজপুর জেলার মানুষের জন্য তিনি এখন পর্যন্ত আশির্বাদ স্বরুপ। তিনি আওয়ামীলীগ বিশ্বাসী হলেও মানব সেবায় দল মত নির্বিশেষে জনসেবা করে যান। আমার বাবার পরে সেরকম শক্ত চরিত্রে আবুল কালাম আজাদ চাচাকে দেখতে ভাল লাগে।

 
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার বহু আগে থেকে তিনি ছাত্ররাজনিতির সাথে জড়ীত ছিলেন। তারপর স্বাধীনতা যুদ্ধ, শেখ সাহেবের ডাকে দেশের স্বাধীনতা লাভে যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। দলীয় আনুগত্য থাকলেও ১৯৯৩/৯৪ সাল থেকে তিনি সক্রিয় ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। বয়স উনার ৭০ ছুইছুই কিংবা হয়তো পেরিয়ে এসেছেন, কিন্তু উনাকে দেখে তা বুঝার উপায় নেই। আজাদ চাচা আমার বাবার খুব ভাল বন্ধু উনারা সহযোদ্ধা। আমি যখন থেকে উনাকে চিনি তখন থেকেই উনাকে সাদা চুলে দেখেছি শহরে বিভিন্ন জায়গায়, কখনও হেটে কখনও রিক্সায়। বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে নিঃস্বার্থ ভাবে অংশ নিতে। ফর্সা, লম্বা, দারুন ভারি কন্ঠ, পোশাক আশাকে এই যুগের যেকোন তরুনকে একহাত মেপে নেবার মত তিনি চির তরুন এবং একজন সত্যবাদি মানুষ। এই চির তরুন আবুল কালাম আজাদ আজও মানুষের বিপদে ঝাপিয়ে যান সেই ১৯৭১ এর স্বাধিনতা যুদ্ধের মত।
 
আমার বাবাকে দেখেছি কোন অন্যায় দেখে কখনও চুপ করে থাকেননি, মুখের উপর প্রতিবাদ করতেন। আর আজাদ চাচাকেও সেই একই মানসিকতায় চলতে দেখি। ভাল লাগে এরকম মানুষের সাথে মিশতে কথা বলতে, তাদের জ্ঞান ও চরিত্রের কিছু অংশ নিজের ভিতরে ধারন করতে। সেই মানুষটার নামে মামলা হয়েছে, অসৈজন্য মূলক আচরন এবং হুমকি প্রদর্শনের মামলা।
 
গত কিছুদিন থেকে দিনাজপুরের প্রমিলা ক্রীকেট কোচ নিয়ে স্বরগরম দিনাজপুর। এক তরুনী খেলোয়ারের শ্লীলতা হানির ঘটনা নিয়ে নারীবাদি সংগঠন গুলো আন্দোলন শুরু করে। অভিযুক্ত কোচের শাস্তি জন্য মিটিং মিছিল মানববন্ধন আলোচনা সভা সব কিছুতে প্রবিন রাজনিতিবিদ এবং সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত আবুল কালাম আজাদের উপস্থিতি ছিল বরাবরের মত ঠিক সবার সামনে। এটা কোন রাজনৈতিক বিষয় নয়, একজন নিচ নারী লোভী মানুষকে ক্রীড়াঙ্গন থেকে সরিয়ে সেখানে সুষ্ঠ পরিবেশ তৈরী করাই ছিল লক্ষ সবার। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দরবারের কড়া বারবার নেড়েও কোন সদোত্তর মিলছিল না।
 
দিনাজপুরের সুধী মহল সেই নির্যাতিত তরুণীর পক্ষে দাড়িয়েছিল শক্ত ভাবেই। আর দাড়াবেই না বা কেন, দিনাজপুরের মান সম্মানের নিয়ে প্রশ্ন। জানা যায় আগেও সেই ক্রীকেট কোচের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ এসেছিল। সেদিকে প্রশাসন কর্নপাত করছে না আবার সুধী মহল পূর্বের মেয়ে গুলোর পরিচয় প্রকাশ ও সম্মান স্বার্থে বিষয়টি তুলছেন না। এদিকে হঠাৎ করে কিছু লোক মানববন্ধন শুরু করে কোচের পক্ষে। দুপক্ষ এখন একে অন্যের ঘাড়ে দোষ দিয়ে সমানে মিটিং ও মানববন্ধন করে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নারীবাদি সংগঠন ও সুধি মহল আবুল কালাম আজাদ সহ জেলা প্রশাসকের স্মরনাপন্ন হন। তিনি সকলকে নিয়ে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কাছে প্রথম স্বারকলিপি জমা দেন সুষ্ঠ তদন্ত এবং বিচারের দাবি জানান। সেটা গত রমজান মাসের ঘটনা। তারপরও সেই কোচ দ্বায়িত্ব পালন বা কর্মরত আছে দেখে উনারা আবার গত ৫ জুলাই বুধবার পূনরায় স্বারকলিপি দিতি গেলে জেলা প্রশাসক কক্ষে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, এবং বৃহস্পতিবার মামলা হয়। বিষয়টা ঘোলাটে কেন সেখানে উত্তেজনা মূলক পরিস্থিতি ঘটল। এই বিষয় নিয়ে আমার সাথে আজাদ চাচার সাথে কথা হয়, তিনি জানান জেলা প্রশাসক বিষয়টাকে গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না বলে এরকম ঘটনা ঘটেছে। অসহায় মেয়েটির কথা প্রসাশক মহাদয়কে জানাতে গিয়ে উনার কক্ষে অসৌজন্যমূলক আচরনের ঘটনাটি ঘটে। অসৌজন্য বলতে টেবিল থাপড়ে বলা “কোচ এখনও দ্বায়িত্বে কেন”, আর হুমকিটা ছিল “দিনাজপুরের মানুষ ইয়াসমিন আন্দোলনর কথা ভুলেনি”। ৫ জুলাই প্রশাসক প্রেসব্রিফিংএ তার বক্তব্য প্রকাশ করেছেন। দোষীর শাস্তির বিষয় ছেড়ে এখন যারা অভিযুক্ত কোচের শাস্তির জন্য আন্দোলনে নেমেছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা। বিচার চাইতে গিয়ে মামলা হলে সমাজের পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা ভেবে চিন্তিত হচ্ছি।
 
মামলায় আসামী আবুল কালাম আজাদ, নুরুল মতিন সৈকত-কেন্দ্রীয় খেলাঘর দিনাজপুরের সাধারণ সম্পাদক ও দিনাজপুর সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের প্রদর্শক, সহিদুল ইসলাম-জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল দিনাজপুরের সাধারণ সম্পাদক এবং ড. মারুফা বেগম-বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, দিনাজপুরের সাধারণ সম্পাদক ও দিনাজপুর সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষসহ আরও ২৫/৩০ জন।
 
গত শনিবার রাত আটটার দিকে মোড়ান মোড়ে চাচার সাথে দেখা, কেমন আছেন জিজ্ঞেস করতে তিনি হাসতে হাসতে বলেন আমার উপর মামলা, এবার জেলের ভাত খেতে হতে পারে। কথাটা শুনে আমার খুব খারাপ লাগেছিল। ব্যবহার বংশের পরিচয়, ৭০ বছরের একজন প্রবিন ব্যাক্তি দাবি নিয়ে সামনে দাঁড়ালেও চেয়ার ছেড়ে উঠে একটা সালাম দেওয়ার মত সৌজন্য যার নাই তার কাছে মামলার চেয়ে ভাল কি আশা করতে পারে জেলাবাসি। দিনাজপুরের সব মেয়েরাই এখন ইয়াসমিন আর প্রশাসন কিংবা এর অনুসারী বারবার তাদের ধর্ষন করে যাবে আন্দোলন হলে গুলি নয়তো অসৌজন্যমূলক আচরণ আর হুমকির মামলা হবে। এটাই কি দিনাজপুর বাসির নিয়তি, দিনাজপুর জেলার মেয়েদের কি বাবা কিংবা ভাই বলে কেউ নেই যারা এসবের প্রতিবাদ করবে? আছে, আর তাদের মধ্যে আবুল কালাম আজাদ একজন।
 
আবুল কালাম আজাদ-সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম দিনাজপুরের আহ্বায়ক ও দিনাজপুর নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি। দিনাজপুরের আবুল কালাম আজাদরা উচু গলায় কথা বলে কিন্তু হুমকি দেয় না, কারন হুমকি কুকুর দেয়। আব্রু নষ্টের বিচার না পেয়ে দেশের যে কোন বাবাই টেবিল থাপড়াবে, যে কোন ভাই ইয়াসমিন আন্দোলনের কথা স্মরন করিয়ে দেবে। সেই ঘটনাকে জনগনের ট্যাক্সের টাকায় এসি রুমে টেবিলের পেছনে বসা সাহেবদের হুমকি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের মনে হতোই পারে। এরা হুকুম হাঁকাতে এসেছেন ধমক শুনতে নয়, সেটা যতই ন্যায় সঙ্গত হোক। ৭০ বছর বয়সের মানুষটার গলার আওয়াজে ভড়কে গিয়ে শেষমেষ মামলা আশ্রয়। অথবা এটাও হতে পরে চক্রান্ত করে আন্দোলন থামানর চেষ্টা, যাতে ধর্ষকের বিচার আন্দোলন থমকে যায়। লাল সবুজ পতাকার সবুজ বাংলায় ধর্ষকের বিচার হবেই। নারী নির্যাতন একটি জঘন্যতম অপরাধ, এই অপরাধীকে বাঁচাতে যতই মামলা দিয়ে দিনাজপুরের আবুল কালাম আজাদদের দমিয়ে রাখা সম্ভব না, সে যতই হোমড়া চোমড়া হোক না কেনো। দিনাজপুরের মাটিতে ধর্ষক ও সহযোগিদের স্থান নাই, থাকবে না।
__আজাদ জয়