রংপুরের পীরগাছায় তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে বিলিন হচ্ছে বিস্তৃর্ণ জনপদ ও ফসলী জমি। গত এক সপ্তাহে উপজেলার ছাওলা ও তাম্বুলপুর ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম নদীগর্ভে চলে গেছে। হুমকীর মূখে পড়েছে ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও একটি ক্লিনিক কয়েক হাজার হেক্টর আবাদী জমি। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখাযায়, ভাঙ্গনের শিকার মানুষগুলো তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

নদী পাড়ের মানুষজন জানায়, গত ১০ দিনে উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের নদীপাড়ের শিবদেবচর, আমিনপাড়া, বৈড়াগীপাড়াসহ প্রায় ৫টি গ্রাম নদীগর্ভে চলে গেছে। এতে বসতভিটা, আবাদী জমি ও বাড়িঘর হারিয়েছে কমপক্ষে ২ হাজার মানুষ। তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

এছাড়াও হুমকী মূখে পড়েছে ওই এলাকার দু’টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বি-তল ভবন, একটি মাদ্রাসা, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক ও দু’টি মসজিদসহ থেতরাই, জুয়ান সদরা, পূর্ব ছাওলা, চৌমুহনীসহ প্রায় ৮/১০টি গ্রাম।

নদী ভাঙ্গনের শিকার শিবদেব চরের বাসিন্দা আব্দুল খালেক (৬০), আম্বার ফকির (৬৫), আইয়ুব আলী (৩৬) সহ অনেকেই বলেন, গত কয়েক দিনের গুড়ি ড়ুড়ি বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তা নদীতে তীব্র বেগে স্রোত প্রবাহিত হওয়ায় নদী ভাঙ্গন প্রকট আকার ধারন করেছে। ফলে প্রতিদিন তিস্তার গর্ভে চলে যাচ্ছে শতশত একর আবাদী জমি, বসতভিটা ও ঘরবাড়ি। তারা অভিযোগ করে বলেন, নদী ভাঙ্গন প্রকট আকার ধারন করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ ও নিঃস্ব মানুষগুলোর দূর্গতি লাঘবে কোন প্রকার উদ্যোগ গ্রহন করেনি।

ছাওলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ আব্দুল হাকিম বলেন, নদী ভাঙ্গন ছাড়াও বৃষ্টির পানিতে তার ইউনিয়নের নীচু ৬টি গ্রাম তলিয়ে যাওয়ায় কয়েক হাজার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিনি বলেন, নদী ভাঙ্গন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা উপজেলা প্রশাসনের নিকট জমা দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোন বরাদ্দ পাননি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বলেন, উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি তেমন ভয়াবহ নয়। কিছু নিছু গ্রাম বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দূর্গত মানুষদের মাঝে তা বিতরন করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য