কাতারের ওপর জারিকৃত সৌদি জোটের নিষেধাজ্ঞার পর ওই কূটনৈতিক সংকটের যথাযথ সমাধান খুঁজছে চলছে নানামুখী প্রচেষ্টা। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর আর বাহরাইন কর্তৃপক্ষের দেওয়া ১৩ শর্তের কোনটিই সরাসরি মানতে রাজি হয়নি কাতার। সংকট সমাধানে মধ্যপ্রাচ্য সফরে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। তার সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের মন্ত্রীদের বৈঠক কোনও ফলাফল ছাড়াই শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার আবারো কাতারে সফরে যাবেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কাতারের ওপর সৌদি আরব ও তার মিত্রদের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর সৃষ্ট পরিস্থিতি অবসানের উপায় খুঁজে বের করাই টিলারসনের মূল লক্ষ্য।

জঙ্গিবাদে অর্থ সরবরাহ বন্ধ করার বিষয়ে এরই মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার। তবেসৌদি আরব ও তার মিত্র-দেশগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হলেও কাতারকে করা বয়কট তারা জারি রাখবে। কারণ তারা কাতারের ওপর বিশ্বাস বা আস্থা রাখতে পারছেন না। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্ত্রী নোরা আল কাবি বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, তারা এই চুক্তিটিকে খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য মনে করছে না।

নোরা বিবিসিকে বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে কাতার দুবার চুক্তি করে এবং সম্পূরক আরও একটি চুক্তি হয় যেখানে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদকে ঠেকানোর লড়াইয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সবই ছিল মিথ্যে প্রতিশ্রুতি। কার্যত কিছুই তারা করেনি। তাই আমরা তাদের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি”। তবে এই চুক্তিকে ইতিবাচকই মনে হচ্ছে বলে জানান তিনি। কিন্তু তা কিভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তার ওপরই নির্ভর করে সবকিছু।

তবে, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যে স্বাক্ষর হওয়া এই এমওইউ অনুসারে দোহা কর্তৃপক্ষকে সামনের দিনগুলোতে বেশকিছু কাজ ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। সন্ত্রাসবাদে সমর্থন ও অর্থায়নের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে কাতার হামাস বা ইসলামিক স্টেটকে কোন ধরনের সহযোগিতার বিষয়টি শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সৌদি আরব সফর শেষ হয়েছে কোনও আশা ছাড়ািই। চলতি সপ্তাহে তিনি কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরব সফর করেন এবং এসব দেশের নেতাদের সাথে কাতার ইস্যুতে চলমান সঙ্কট কাটানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। তবে এখনো এ ইস্যুতে কোনো অগ্রগতি হয়নি। কুয়েত সফরের মাধ্যমে টিলারসন মধ্যপ্রাচ্য সফর শুরু করলেও বুধবার সৌদি আরব থেকে আবার কুয়েত যান। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, টিলারসন বৃহস্পতিবার আবারও কুয়েতে থেকে কাতারে যাবেন এবং সে দেশের যুবরাজের সাথে আলোচনার বিষয়বস্তু কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান আলে সানিকে জানিয়ে দেবেন। সফরের শুরুতে টিলারসন কুয়েত থেকে কাতারে গিয়েছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য