ভারতের বিজেপিশাসিত অসম থেকে বাংলাদেশি মুসলিমদের তাড়াতে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানোর কথা বলায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক নির্বাহী সভাপতি প্রবীণ তোগাড়িয়াকে গ্রেফতারের দাবি জানালেন বিরোধীরা।

এআইইউডিএফ নেতা ও সাবেক বিধায়ক আব্দুর রহিম খান (বুধবার) গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে সংঘাতের পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে এ ধরণের মন্তব্য করায় তাকে গ্রেফতার করা উচিত।’ তিনি তোগাড়িয়াকে সতর্ক করে দিতে রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, অসম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি রিপুন বরা বলেন, ‘বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকারের ব্যর্থতা প্রসঙ্গে মানুষ যাতে মুখ খুলতে না পারেন সেকথা মাথায় রেখে পরিকল্পিতভাবে তোগাড়িয়া ওই মন্তব্য করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘বিদেশি বিতাড়নে সকলেই ‘অসম চুক্তি’ মেনে নেয়া সত্ত্বেও ওপার বাংলার হিন্দু বাঙালিদের এদেশে আশ্রয় দেয়ার কথা বলে তোগাড়িয়া প্রকৃতপক্ষে অসম আন্দোলনে শহীদ হওয়া ৮৫৫ জনকে অপমানিত করেছেন।’

কংগ্রেস নেতা রিপুন বরা বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে কখন কীভাবে ব্যবহার করতে হয় সে সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান পর্যন্ত নেই তোগাড়িয়ার। সেজন্য তিনি সবসময় আবোল তাবোল বকে থাকেন।’

তার মতে, ‘অসমে যদি সত্যিই ৭০ লাখ বাংলাদেশি মুসলিম থাকেন তাহলে সেই তথ্য তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে তুলে দিচ্ছেন না কেন? কারণ, ২০১৪ সালের ১৬ মে নির্বাচনি প্রচারে এসে বিজেপি ক্ষমতায় এলে অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে বিতাড়নের কথা বলেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু গত তিন বছরে কেন্দ্রীয় সরকার কত জন বাংলাদেশিকে তাড়াতে পেরেছে?’

এ ব্যাপারে সরকারকে সঠিক তথ্য তুলে ধরা উচিত বলেও অতুল বরা মন্তব্য করেন।

গত ১০ জুলাই সোমবার অসমে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রবীণ তোগাড়িয়া বলেন, ‘১৯৫১ সালে অসমে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ৪০ লাখ। বর্তমানে তা বেড়ে ১.১০ কোটি হয়েছে। এরমধ্যে ৭০ লাখই বাংলাদেশি মুসলিম। এদের চিহ্নিত করে বিতাড়ন করতে মোটেই সময় নষ্ট করা উচিত নয়। এ ব্যাপারে সরকারের পাশাপাশি বিশ্ব হিন্দু পরিষদও সাহায্য করবে।’

তোগাড়িয়া সাফ বলেন, ‘যেভাবেই হোক সরকারকে ৭০ লাখ বাংলাদেশি মুসলিমকে চিহ্নিত করে তাদের বিতাড়ন করা উচিত। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফ, বিএসএফ জওয়ানদের কাজে লাগানো হোক।’

তিনি ১৯৫০ সালের ইমিগ্রেশন এক্সপালসন অ্যাক্ট তুলে ধরে নির্যাতনের জন্য কোনো বাংলাদেশি হিন্দু এদেশে এলে তাকে আশ্রয় দেয়া যাবে বলে মন্তব্য করাসহ ডিটেনশন ক্যাম্পে কোনো হিন্দুকে আটকে রাখা উচিত নয় বলে জানান।

তোগাড়িয়া এদিন হিন্দু তরুণ-তরুণীদের মোটা টাকা বেতনে হীরা ও পাঁপড়ের কারখানায় চাকরি দেয়ারও প্রস্তাব দেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য