দিনাজপুরের বীরগঞ্জে স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী লতা রাণী দাস (২০) এবং স্ত্রীর বড় ভাই মোহন দাস (২৬) নামে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। লতা রাণী দাস এবং মোহন দাস বীরগঞ্জ পৌর শহরের কাচারী পাড়ার মজিয়া দাসের মেয়ে ও ছেলে।

বুধবার গভীর রাতে বীরগঞ্জ পৌর শহরের কাচারী পাড়ার মজিয়া দাসের বাড়ী থেকে তাদের আটক করে পুলিশ।

বীরগঞ্জ থানার এসআই এবং মামলার তদন্ত অফিসার প্রভাত চন্দ্র সরকার জানান, ঠাকুরগাঁও জেলা সদরের কলেজ পাড়া নিমাই চন্দ্র দাসের ছেলে রাজু দাস (২৬) এক বছর পূর্বে বীরগঞ্জ পৌর শহরের কাচারী পাড়ার মজিয়া দাশের মেয়ে লতা রাণী দাসকে বিয়ে করে।

বিয়ের পর বেসরকারী সাহয্যে সংস্থা আরডিআরএস ফিল্ড অফিসার হিসেবে বীরগঞ্জ উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের গোলাপগঞ্জ বাজারে কর্মরত ছিলেন। চাকুরীর কারণে গোলাপঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা কুমদ রঞ্জন রায়ের ছেলে মিঠুর রায়ের বাড়ী ভাড়া করে তিনি সেখানে বসবাস শুরু করেন।

সেখানে অবস্থান কালে গত ১৭এপ্রিল তাকে নিজ ঘর থেকে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে পুলিশ বীরগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে এবং লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করেন। ময়না তদন্তের রিপোর্টে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে মঙ্গলবার বীরগঞ্জ থানাকে অনুলিপি প্রদান করে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ।

রিপোর্টের বিষয়টি অবহিত হয়ে নিহতের বাবা নিমাই চন্দ্র দাস মঙ্গলবার রাতে বীরগঞ্জ থানায় রাজু দাসের স্ত্রী লতা রাণী দাস (২০), লতা রাণীর দাসের ভাই মোহন দাস (২৬), মা অলকা দাস (৫০), বোনের স্বামী খানসামা উপজেলার ঝাড়বাড়ী গ্রামের গণেশ রাম দাসের ছেলে সাধু রাম দাস (৩৮)এর নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত ৪-৫জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।মামলা-১১।

তারিখ-১১/০৭/১৭ইং। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে স্ত্রী লতা রাণী দাস (২০) এবং স্ত্রীর বড় ভাই মোহন দাস (২৬)কে আটক করেছে।

বীরগঞ্জ থানার ওসি আবু আককাছ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাকী আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য