দালালের খপ্পড়ে পড়ে আপার অ্যাবডোমিনাল হার্নিয়া অপারেশন করাতে এসে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় মিন্তাজ জাহান মেধা নামে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ মেধার দুই কিডনি বের করে তাকে হত্যা করেছে চিকিৎসরা।

মঙ্গলবার (১১ জুলাই) দিনগত রাতে রংপুর মহানগরীর ইসলামবাগ আরকে রোডের ভিআইপি জেনারেল হসপিটালে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালটির নার্স ও আয়াসহ ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।

কোতয়ালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিএম জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপালাতের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত মেধা রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১২নং ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামের মাহমুদুল হাসানের মেয়ে। তিনি জানান, মেধার হার্নিয়ার ব্যথার কথা শুনে তার এলাকার তুষার নামে রংপুরের প্রাইম মেডিকেল কলেজের ছাত্র অপারেশন করার জন্য পরামর্শ দেন। এরপর তুষারের সহযোগিতায় সোমবার (১০ জুলাই) রাতে ভিআইপি জেনারেল হসপিটালে মেধাকে ভর্তি করা হয়।

পরেরদিন রাত দশটায় তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। এর প্রায় আড়াই ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ওটির ভিতর থেকে কেউ বাহিরে না আসায় মেধার মা অপারেশন থিয়েটারের ভিতরে প্রবেশ করতে চান। এসময় তুষার ও একজন নার্স মেধাকে দ্রুত মেডিকেলে নেয়ার জন্য পরামর্শ দেন।

এঘটনার পর পরই মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের চিকিৎসক হিরন্ময় কুমার, বিপ¬ব তুষারসহ অন্যরা পালিয়ে যান। গা ঢাকা দিয়েছেন হসপিটালটির মালিক লিটন রায়। এদিকে খবর পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

মেধার মা পারভীন বেগম অভিযোগ করেন, ‘হার্নিয়া অপারেশনের নামে মেধার দুই কিডনি বের করে তাকে হত্যা করেছে চিকিৎসকরা।’

বুধবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে সালেহা বেগম নামে এক নার্স জানান, মেধার শরীর থেকে কিডনি বের করার কথা তিনি জানেন না। শিশুটিকে হার্নিয়া অপারেশনের জন্য ভর্তি করা হয়েছিল বলে শুনেছেন তিনি।

এব্যাপারে ওসি এবিএম জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগ পাওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। ক্লিনিকের মালিকসহ অন্যান্যদের সন্ধান করা হচ্ছে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য