ঝাড়বাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্যাম্পাস দেখলে অনেকে বলতে পারেন বন্যা। কিন্তু তা নয়। বৃষ্টিপাতেই তলিয়ে যায়। বীরগঞ্জের ঝাড়বাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এখন হাঁটু পানি।

গত বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হওয়ার পর বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেন ঘোষণা দেন নতুন ড্রেন নির্মাণ করার। এরপর নতুন ড্রেন নির্মাণ হলেও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হয়নি। বরং উল্টো স্কুলের মাঠে ড্রেন দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। ফলে শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকরা চরম দূর্ভোগে পড়েছেন।

সোমবার বিকেল হতে থেমে থেমে প্রবল বেগে বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারী এ বৃষ্টিতে বেহাল দশা স্কুলের। আর এ বর্ষা মওসুমে বৃষ্টি হবেই। তাই তরিৎ ব্যবস্থা নেয়া না হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার পানির কারণে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা কমে যাচ্ছে। পাঠদানেও ব্যহত হচ্ছে। এ অবস্থায় স্কুলও বন্ধ রাখা সম্ভবপর নয় বলে বিভিন্ন সমস্যার কথা বললেন শিক্ষকগন।

বীরগঞ্জের ঝাড়বাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আরেকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে ঝাড়বাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ও ঝাড়বাড়ী সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীরা এ দুর্ভোগে পড়েছেন।

ঝাড়বাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী সম্পা আক্তার জানান, বৃষ্টির কারণে বিদ্যালয়ে আসতে পারিনা, পোশাক বইপত্র ভিজে যায়। মাঠে খেলাধুলা করতে পারিনা।

ঝাড়বাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণির ছাত্র মো: নাসিম জানান, এখন বাজারে পানিতে ভেসে আসা বিভিন্ন ময়লার দুর্গন্ধ আর পোকা মাকড়ের ভয়ে বিদ্যালয়ে পড়াশোনা মন বসে না।

ঝাড়বাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা জানান, বর্ষার সময় ছাড়াও সামান্য বৃষ্টিতে স্কুল ক্যম্পাস পানিতে তলিয়ে যায়। পানি নিষ্কাশনের জন্য যদিও একটি ড্রেন করা হয়েছে কিন্তু তাতে কাজে আসেনি। বরং ওই ড্রেন দিয়ে পাশের বাজারের পচাপানি স্কুল মাঠে চলে আসছে। যেহেতু স্কুলের পানি নিষ্কাশনের ড্রেনটি বাইরের বাজারের সাথের ড্রেনটির চেয়ে নিচু। এজন্য পানি যায় না, আসে। এ থেকে নিস্কৃকিত পেতে স্কুল মাঠ আরও উচু করে এবং উচু করে ড্রেনটি তৈরী করতে হবে তবেই সুফল পাওয়া যাবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য