সংবাদ সম্মেলনঃ দিনাজপুরে একমাত্র মেয়ে মীম’র হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায় বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তার দাবী করে সংবাদ করেছেন সদর উপজেলার খোদপাধবপুর (মিস্ত্রিপাড়া) গ্রামের মৃত ইমাম বকসের ছেলে মো. মধু মিয়া।

মঙ্গলবার (১১ জুলাই) দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবী করেন। সংসাদ সম্মেলনে তাঁর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তাঁর আত্মীয় আবেদা বেগম। এ সময় মধু মিয়ার স্ত্রী মিলি বেগম ও নিহত মীম’র শিশু কন্যা ফাইমা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে মধু মিয়া বলেন, গত প্রায় দুই বছর পূর্বে তাঁর একমাত্র মেয়ে মৃত মীমকে (২৩) সদর উপজেলার খামারবাড়ী (মাহুতপাড়া তুত বাগান প্রধান ফটক) এলাকার মো. নুর ইসলামের ছেলে মো. ফিরোজ’র (২৭) সাথে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের পর হতে মেয়ের স্বামী ফিরোজ, শ্বাশুড়ী মোছাঃ আমেনা খাতুন (৫২) শ্বশুর মো. নুর ইসলাম (৫৬) মেয়ের নিকট ২ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবীতে আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময় শারিরিক ও মানষিক নির্যাতন করে আসসিল। এ ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে অনেকবার বিচার-শালিশও হয়।

মেয়েকে শারিরিক ও মানষিক নির্যাতনের প্রেক্ষিতে কোতয়ালী থানায় অভিযোগ করলে থানার এসআই আব্দুস সবুর উভয় পক্ষকে থানায় বসিয়ে বিষয়টি আপোষ-নিষ্পত্তি করে দেন। এই মিমাংসার পর হতে মেয়ে তার স্বামী ফিরোজ ও ৬ মাস বয়সী শিশু কন্যা ফাইমাসহ ভাড়া বাড়ীতে বসবাস করে আসছিল।

গত ০৪-১২-২০১৬ তারিখ দিবাগত রাত একটা হতে পৌনে দুইটার মধ্যে মেয়ের স্বামী ফিরোজ, শ্বশুড় নুর ইসলাম ও শ্বাশুড়ী আমেনা একত্রিত হয়ে আমার মেয়ে মীম’র উপর শারিরিক নির্যাতন করে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে আমার মেয়ে মীম’র মৃত্যু হয়েছে বুঝতে পেয়ে মেয়ের গলায় ওড়না প্যাচিয়ে ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে লাশ ঝুলিয়ে রাখে।

রাত ২টার দিকে পাশের প্রতিবেশী সিজু নামক ব্যক্তি মোবাইলে বিষয়টি আমাকে জানালে কোতয়ারী থানায় জানিয়ে মেয়ের বাড়ীতে যাই। ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানতে পারি মেয়েকে হত্যা করে গলায় ওড়না প্যাচিয়ে সিলিংয়ের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে। খবর পেয়ে কোতয়ালী থানার এসআই জিয়াউর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁর নির্দেশে ঝুলন্ত লাশ নামানো হয়।

লাশের সুরতহাল রিপোর্টে ডান হাতের কবজি পর্যন্ত রক্ত মাখা, নাক ও মুখে রক্তাক্ত জখম ও মাথার ডান পাশে কানের উপর থেলানো রয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়। ঘটনাস্থলেই মেয়ের স্বামী ফিরোজ ও তার মাতা আমেনাকে গ্রেফতার করা হয় এবং নুর ইসলাম পালিয়ে যায়। বর্তমানে ফিরোজ ও আমেনা জামিনে মুক্তি পেলেও নুর ইসলাম পলাতক রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, গত ০৭-০৭-২১০৭ তারিখ বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার সময় আসামী ফিরোজ ভাড়াটে কিছ’ গুন্ডাসহ আমার বাড়ীর সামনে এসে আমাকে হত্যা মামলাটি তুলে নেয়ার হুমকি দেয়। অন্যথায় আমার হাত-পা ভেঙ্গে দিবে এবং নিহত মেয়ে মীম’র শিশু কন্যা ফাইমাকে খুন করে ওই খুনের দায় আমার উপর চাপিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি দেয়। শুধু তাই নয়, এর পর হতে বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে সে আমাকে ও আমার পরিবারের লোকদের হুমকি দিয়ে আসছে। আসামীরা মামলার সাক্ষীদের সাক্ষী না দেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি ও মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত করার চেষ্টা করে আসছে।

সংবাদ সম্মেলনে মধু মিয়া বলেন, বর্তমানে আমি ও আমার পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি মেয়ে মীম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচার দাবীর পাশাপাশি তাঁর পরিবারের লোকজনের নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য