উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও প্রবল বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে প্রবল স্্েরাতে গত ২৪ঘন্টায় তীব্র ভাঙ্গনে উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের তৈয়বখা এলাকায় প্রায় ৩শত ঘর-বাড়ী, শতাধিক গাছপালা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। অনেক পানি বন্দী ও বাস্তুহারা পরিবার বাঁধে এবং অন্যের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া ঘরে পানি উঠায় অনেকে মাচাং করে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবন-যাপন করছে। এদিকে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙ্গন ঠেকাতে পাইলিংয়ের কাজ শুরু করেছে।

বাস্তুহারা পরিবার ও এলাকাবাসীরা জানান, তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় তিস্তা ও ধরলা নদীর সব ক’টি চরাঞ্চল ডুবে গেছে। ফলে ইরি-বোরো বীজতলা ও শতাধিক পুকুর ডুবে গিয়ে অর্ধকোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। এছাড়া চরের শত শত মানুষ, গবাদী পশু-পাখি পানি বন্ধী হয়ে পড়ে। ডুবে যাওয়া চরের মানুষজন মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

চর তৈয়ব খাঁ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর বিদ্যানন্দ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ছিনাই কিং আবুল হোসেন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পানি উঠায় বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। ১১জুলাই দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হাসেম বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ৮৬টি পরিবার ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের ২১ পরিবারের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল এবং ১৫টি পরিবারের মাঝে নগদ ২হাজার টাকা করে ত্রান বিতরন করেন।

এব্যাপারে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ তাইজুল ইসলাম জানান, গত কয়েকদিন ধরে তৈয়বখাঁ গ্রামে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ফলে এলাকার মানুষ ভাঙ্গন আতংকে দিন কাটাচ্ছে। ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ কর্মকার জানান, উজান থেকে পানি আসায় আকস্মিকভাবে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্ট ২৯.০৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস বিপদসীমার নীচে ও কুড়িগ্রাম ধরলা পয়েন্টে ১৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য