আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নে প্রায় ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। পানি তোড়ে কুটিরপাড় বালুর বাঁধের প্রায় একশ ফুট এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন রোধে স্থানীয় এলাকাবাসী রাত থেকে বালুর বস্তা আর বাঁশ দিয়ে বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাঁধটি ভেঙ্গে গেলে বাঁধের ভাটিতে থাকা প্রায় ৬ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হবেন বলে এলাকাবাসী দাবী করেন।এদিকে পানির প্রবল স্রোতে মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবরধন হাট ইসমাইল পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তিস্তা নদীর হুমকির মুখে রয়েছে।

যে কোন মুহূর্তে বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। সোমবার (১০ জুলাই) রাত থেকে পানি বৃদ্ধির কারণে সকাল থেকে বিদ্যালয়টি অঘোষিত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়টিতে একশ ৯৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বলে প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল জানান। শেষ পর্যন্ত কোথায় বিদ্যালয়টি জায়গা হবে তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

সোমবার দুপুরে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবরধন ৭ নং ওয়ার্ড, সলেডি স্পার-২, বারঘড়িয়া, দক্ষিণ বালাপাড়া,কুটিরপাড় এলাকা ঘুরে দেখাগেছে, এখানে প্রায় ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আবার অনেকেই পানিবন্দির কারণে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দী পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এখন পর্যন্ত সরকারীভাবে কোন ত্রান সামগ্রী পৌঁছেনি সেখানে। গোবরধন ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মফিজ উদ্দন মাত্র কয়েকদিন আগে তিস্তা নদীর ভাঙ্গনের স্বীকার হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। ইতিমধ্যে তিস্তার ভাঙ্গনে ২২টি পরিবারের ঘরবাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

হুমকির মুখে রয়েছে আরও ৩০ টি পরিবার। তবে পানি কমার সাথে সাথে তিস্তায় প্রবল আকাওে ভাঙ্গন দেখা দিবে বলে এলাকাবাসী দাবী করেন।এদিকে তিস্তার পানির তোড়ে রাত থেকে কুটিরপাড় বালুর বাঁধের একশ ফুট এলাকায় ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ভাঙ্গন রোধে স্থানীয়রা বালুর বস্তা আর বাঁশ ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন।মহিষখোচা ইউপি চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী জানান, পানি বৃদ্ধির ফলে ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এছাড়া কুটিরপাড় বালুর বাঁধটি রক্ষার জন্য এখন পর্যন্ত ৩ শ বালুর বস্তা নদীতে ফেলা হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন। বাঁধটি রক্ষা করা হলে ভাটিতে থাকা ৬ হাজার পরিবার রক্ষা পাবে। তিনি বাঁধটির রক্ষার জন্য জোর দাবী জানান।

আদিতমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে জানান,তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মহিষখোচা ইউনিয়নের প্রায় ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সরকারীভাবে সাহায্য সহযোগিতার জন্য উদ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসাদুজ্জামান জানান,সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে পানিবন্দি পরিবারের তালিকা তৈরির জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য