অনেকদিন ধরেই শোবিজ অঙ্গন থেকে দূরে রয়েছেন আলোচিত মডেল-অভিনেত্রী শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি। তবে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মাঝে সংবাদে ঠিকই থেকেছেন তিনি। বছর দেড়েক আগেই এ পর্দাকন্যা তার দ্বিতীয় বিয়ের ভাঙন ও ডিভোর্স নিয়ে সরাসরি ফেসবুকে ঘোষণা দেন।

যার ফলে নতুন করে আলোচনায় আসেন। এরপর একটি নাটকে অভিনয় করেন। তখন বলেছিলেন মাঝে মধ্যে ভালো গল্পের ও চরিত্রের নাটক হলে নিয়মিত হবেন আবার ছোট পর্দায়। কিন্তু সেটা হয়নি। এমনকি বড় পর্দায় কাজ করার অনেক প্রস্তাবও এর মধ্যে ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি।

চলচ্চিত্রে তিন্নির সম্ভাবনা অনেক ছিল বলেও মনে করেছিলেন চলচ্চিত্রবোদ্ধারা। কিন্তু এ অভিনেত্রীর খামখেয়ালি স্বভাবের কারণে সেই ক্যারিয়ার আর এগোয়নি। তারপরও শাকিব খানের সঙ্গে একটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন এই গ্ল্যামারাস কন্যা।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বেপরোয়া চলাফেরা ও স্ক্যান্ডালের মাধ্যমে সব সময়ই আলোচনা-সমালোচনায় থেকেছেন তিন্নি। ‘ড্রাগস’-এর নেশাও প্রবলভাবে আঁকড়ে ধরে তাকে। যার ফলে ২০১৩ সালের দিকে ঢাকা ও কলকাতার কয়েকটি রিহ্যাব সেন্টারেও ছিলেন তিনি।

তবে এখন সেই অবস্থা কাটিয়ে উঠেছেন। সুস্থ জীবনযাপন করার চেষ্টা করছেন। স্বাভাবিক জীবনের পথে হাঁটা শুরু করেছেন। বর্তমানে তিনি মিডিয়ায় নেই বললেই চলে। প্রথম ঘরের কন্যা ওয়ারিশাকে নিয়েই তিন্নির সময় কাটছে এখন। এ অভিনেত্রী ওয়ারিশাকে ডাকেন ‘জুনিয়র তিন্নি’ নামে।

তার আশেপাশের কাছের জনরাও ওয়ারিশাকে একই নামে ডাকেন। এদিকে মিডিয়ায় না থাকলেও তিন্নি নিয়মিত রয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। কিন্তু ব্যক্তিগত বিষয় খুব কমই শেয়ার করেন তিনি।

কেবল নিজের পছন্দের গান ও ভিডিও শেয়ারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছেন। একটা সময় গায়িকা হিসেবেও ভালো পরিচিতি পেয়েছিলেন তিন্নি। তার গাওয়া ‘ভাবে মন অকারণ সারাক্ষণ, অনুভবে সুখের আলোড়ন’ গানটি বেশ সাড়া ফেলেছিল শ্রোতাদের মাঝে। সেই সময়ে অনেকেই নিয়মিত গান গাওয়ার কথা বলেছিলেন তিন্নিকে। কিন্তু সেখানেও মেধাবী তিন্নির খামখেয়ালিপনা কাজ করেছে।

তবে অতি সম্প্রতি নিজের খালি গলায় গাওয়া একটি হিন্দি গান প্রকাশ করেছেন তিনি ফেসবুকে। ‘তেরে বিন নেহি লাগতা দিল মেরি ঢোলনা’- গানটি গেয়েছেন তিনি। শিরোনামে লিখেছেন- ‘ক্লাসিক্যাল শিল্পী হিসেবে ফেরার চেষ্টা, আমি শিশু নই!’ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শ্রোতা তিন্নির খালি গলায় গাওয়া এ গানটি শুনেছেন। অনেকেই প্রশংসা করেছেন। তিন্নি নিজেও উপভোগ করেছেন বিষয়টি। এদিকে কাজে ফেরার ব্যাপারে এখনও বেশ উদাসীন তিন্নি।

মিডিয়ার রঙিন দুনিয়া তাকে আর টানছে না। আর তাই এ জগতটিকে অনেকটাই পাশ কাটিয়ে চলেছেন বলে জানিয়েছেন তার কাছের ঘনিষ্ঠজনেরা। এমনকি নিজের মোবাইল নাম্বারও কাছের মানুষে ছাড়া কাউকে দিচ্ছেন না তিনি। বরং, কন্যা ওয়ারিশা ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গেই সময় কাটাতে পছন্দ করছেন তিনি।

এদিকে দ্বিতীয় ডিভোর্সের পর নতুন কোনো সম্পর্কেও এখন পর্যন্ত জড়াননি এ পর্দাকন্যা। আপাতত একাই নাকি থাকতে চাচ্ছেন তিনি। তবে পরিবারের সদস্যরা চাইছেন তিন্নি নতুন করে জীবন শুরু করুক। পরিবার থেকে পাত্র দেখার কথাও বলা হচ্ছে। কিন্তু তিন্নি চাইছেন স্বাধীনভাবে থাকতে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য