দিনাজপুর সংবাদাতাঃ চিরিরবন্দর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির ফলাফল বাতিল করে পুনরায় যাচাই-বাছাই করা না হলে উচ্চ আদালতে আইনের আশ্রয় নেয়া হবে। আগামী ৫ দিনের মধ্যে যাচাই-বাছাই কমিটির ফলাফল বাতিল করতে হবে।

সোমবার দিনাজপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ করেন চিরিরবন্দর উপজেলার সাবেক মজিব বাহিনী গেরিলা কমান্ডার মোঃ এমদাদুল ইসলাম।

তিনি তার লিখিত অভিযোগে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ১৫ ও ১৭ মে অনলাইনে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়। বন্ধ/স্থগিত মুক্তিযোদ্ধাদের পর্যায়ক্রমে যাচাই-বাছাই চলাকালীন সময়ে অতিবাহিত হলেও এরপর গত ৬/৭/১৭ ইং তারিখে যাচাই-বাছাই ফলাফল রাতারাতি চিরিরবন্দর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ মোমিনুল ইসলাম ও নির্বাহী অফিসার চিরিরবন্দর কার্যালয়ে যাচাই-বাছাইয়ের কাগজপত্র সংগ্রহ করে অফিসের দেয়ালে নিময় বহির্ভুতভাবে লাগিয়ে দেয়া হয়।

‘ক’ গ্রুপের হা তালিকা এবং ‘গ‘ গ্রুপের না তালিকা। ‘ক’ গ্রুপের যাদের কোন প্রকার কাগজপত্র নাই এবং কি ১৯৭১ সালের ৯ মাসে যুদ্ধকালীন সময়ে তারা অনেকেই সম্পৃক্ত ছিল না। এদেরকে আত্মীয় তথা দলীয়করণ হিসেবে ‘ক’ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যা মুক্তিযুদ্ধের কোন সম্পর্ক নেই। যাচাই-বাছাইয়ের ক্রমিক নং ১, ৩, ১০, ১১, ১২, ১৪, ১৬, ৮। এ ধরনের মানুষের নিকট থেকে ১ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ টাকা উৎকোচ নিয়ে হা তালিকায় নির্বাচিত করা হয়েছে এবং যাদের ‘গ’ গ্রুপে যাদের কাগজপত্র আছে যেমন গেজেট, নগদ, ক্যাম্প রিলিজ এবং মিলিশিয়া ক্যাম্পের সনদ ১ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ টাকা না দেয়ার কারণে তাদেরকে ‘গ’ গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করে। এরা ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধা ভাতাভোগী।

চিরিরবন্দর উপজেলার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার ও এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৭১ সালে মুজিব বাহিনীর নেতৃত্বে ৭ ডিসেম্বর চিরিরবন্দর উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধে নেসার উদ্দীন, আব্দুস সোবহার, মজিবর রহমান সম্মুখে খানদের সাথে যুদ্ধ করে মৃত্যুবরণ করে। যা নেতৃত্ব দেন মুজিব বাহিনীর গেরিলা কমান্ডার এমদাদুল ইসলাম চৌধুরী। প্রকৃত প্রায় ৫০ জন মুজিব বাহিনীর যোদ্ধা একত্রিত হয়ে জেলা মুজিব বাহিনীর অধিনায়ক মোঃ মকছেদুর রহমানের কাছে স্মরণাপন্ন হন। মুজিব বাহিনীর জেলা অধিনায়ক তিনিও যাচাই-বাছাই বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং এব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

দিনাজপুর জেলা কমান্ডার সিদ্দিক গজনবী ও চিরিরবন্দর উপজেলা মোমিনুল ইসলাম এরা ২ জনই ১৯৭১ সালে ৯ মাসের যুদ্ধকালীন সময়ে কোথাও কোন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। এমনকি যুদ্ধও তারা করেননি। আমরা কার কাছে সহযোগিতা চাইব। এব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই আবারো নতুন করে করার জন্য প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী এবং সচিব, জামুক সচিবের নিকট সুবিচার প্রার্থনা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদ, মনসুর আলী, আলহাজ্ব ইয়াদ আলী, সাইদুর রহমান, জয়নাল আবেদীন, এনামুল হক সরকারসহ অর্ধ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য