নিজস্ব প্রতিনিধি ॥ দিনাজপুর পৌরসভার ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের জন্য ৬৫ কোটি ৭২ লাখ ৯০ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (১০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় পৌরসভার মাতেহুল আলম দুলাল মিলনায়তনে অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানে পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এই বাজেট ঘোষণা করেন। প্রস্তাবিত বাজেটে সর্বোচ্চ ধরা হয়েছে ৬৫ কোটি ৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন খাতে সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২ কোটি ৬০ লাখ ৪৫ হাজার টাকা আর ৬৪ লাখ ৫ হাজার টাকা উদ্বৃত্ত রাখা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় প্রস্তাবিত বাজেট হচ্ছে আগামী দিনের কর্ম পরিকল্পনা একটি বিমুর্ত প্রতিচ্ছবি উল্লেখ করে পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পৌরবাসীর দৈনন্দিন জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে এবং সার্বিক নাগরিক সুযোগ সুবিধা প্রদানের গুরুদায়িত্ব পৌরসভার উপর অর্পিত রয়েছে।

দীর্ঘকালের পুঞ্জিভূত সমস্যার আবর্তে জর্জরিত রয়েছে এই পৌরসভা। বিগত সময়ে বিভিন্ন পরিষদ তাদের সার্বিক প্রচেষ্ঠার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে প্রয়াস চালিয়েছে বটে কিন্তু সময় ও যুগের ধারাবাহিকতায় তার চেয়ে আরও বেশী সমস্যা আমাদের সম্মুখে জড়ো হয়েছে। যুগের বিবর্তনের গতিধারা সমাজ জীবনের পরিসর বৃদ্ধি করেছে।

তিনি বলেন, এই পৌর পরিষদের কাছে তাদের চাহিদা ও প্রত্যাশার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা দেখতে চান। আমি জানি ও বিশ্বাস করি নবগঠিত পৌর পরিষদ যুগ ও সময়োপযোগী একটি পরিষদ। আমাদের চিন্তা চেতনা, মানবিক গুনাবলী, সমাজ-সচেতনতা, নিরীহ নিপীড়িত জনগোষ্ঠির একান্ত আপনজন হিসাবে এই পরিষদ সুচিন্তিত মতামতের ভিত্তিতে গনমুখী একটি সুন্দর বাজেট পৌরবাসীর জন্য উপহার দিবো। আমি পৌরসভার মেয়র হিসাবে পরিষদ প্রনীত বাজেটের সঠিক ও সুষ্ঠু বাস্তবায়নে তাদের পরামর্শকে দিক নির্দেশনা হিসাবে গন্য করে যাবতীয় পরিকল্পনার সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে সাধ্যমত সর্বশক্তি নিয়োগ করবো। এই বাজেট অধিবেশনের মাধ্যমে আমি ও আমার পরিষদসহ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে চাই যে, পরিষদের মেয়াদকালে আমরা জনকল্যাণে স্বস্বার্থের উর্ধ্বে থেকে জনসেবায় আতœনিয়োগ করবো।

পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁকে মেয়র নির্বাচিত করে সেবা করার সুযোগ দেয়ায় পৌরবাসির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা করেন। তিনি বলেন, শহরবাসীর জীবনকে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে আমরা রাস্তা সংস্কার, পানি সরবরাহ লাইন সম্প্রসারণ, সড়কবাতি স্থাপন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকারভিত্তিক গুরুত্ব দিচ্ছি। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা হোটেল ও বাজারগুলোতে নজরদারির পরিমান বৃদ্ধি করেছি।

তিনি বলেন, সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত শহরের পূর্বশর্ত হচ্ছে শহরের পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখা। পৌরবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতা ছাড়া পৌরসভার একার পক্ষে কখনই আমাদের প্রিয় শহরটিকে স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে না। মানব শরীরের রক্তবাহী শিরার মত আমাদের শহরের ভিতর দিয়ে বয়ে চলছে ঘাগড়া ও গীরিজা খাল। শহরকে স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে হলে খাল দু’টোকে পরিচ্ছন্ন ও এর প্রবাহ ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরী। জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরনে আমারা পৌর খাল খনন, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ দিনাজপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণে পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

তিনি বলেন, শহরের ব্যাটারীচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রনের লক্ষ্যে জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক জেলা প্রশাসক কার্যালয় কর্তৃক নির্দেশনার আলোকে ৪ হাজার ইজিবাইক তালিকাভুক্তকরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তালিকাভুক্তির জন্য পৌর এলাকাভুক্ত ৫২৫৪টি আবেদন পাওয়া গেলে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ২৭-১২-২০১৬ তারিখে প্রকাশ্য লটারীর মাধ্যমে ৪ হাজার আবেদন নির্বাচন করা হয়। অদ্যাবধি ২৯৩৩টি ইজিবাইকের তালিকাভুক্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, পৌর এলাকায় অনিবন্ধিত ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রনের জন্য জেলা প্রশাসনের সহায়তায় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে।

দিনাজপুর পৌরসভার জন্য গত রমজান মাসে স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে বেলারুশ থেকে আমদানীকৃত ১টি ভাইব্রেটরী রোলার এবং ২ ইউনিট স্কিড স্টিয়ার লোডার (ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করার যন্ত্র) পাওয়া গেছে। যার মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন স্থানে জমাকৃত ময়লা আবর্জনা অতি দ্রততার সাথে পরিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান মেয়র।

বাজেট বক্তৃতার শেষে পৌরবাসির সকল প্রকার নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সময়মত পৌরকর ও পানির বিল পরিশোধের জন্য নাগরিকদের প্রতি আহবান জানান। এছাড়া পৌরসভার খাল, ময়লা-গাড্ডাসহ সকল পৌরসম্পদ অসদুপায়ী ও অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে রক্ষায় পৌরসভাকে সহযোগিতা করা নাগরিকদের পবিত্র দায়িত্ব বলে উল্লেখ তিনি করে বলেন, আসুন আমরা সকলে মিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি স্বাস্থ্যসম্মত, সমৃদ্ধ ও টেকসই শহর উপহার দেই।

বাজেট অধিবেশনে দিনাজপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, পৌরসভার কাউন্সিলর মো. রবিউল ইসলাম রবি, মোস্তফা কামাল মুক্তিবাবু, মো. মোস্তফিজুর রহমান মাসুদ, একেএম মাসুদুল ইসলাম মাসুদ, মো. জাহাঙ্গীর আলম, কাজী অঅকবর হোসেন অরেঞ্জ, মো. সিদ্দারাতুল ইসলাম বাবু, শাহিন সুলতানা বিউটি, মাকসুদা পারভীন মিনা, পৌরসভার সচিব মো. মাহবুবর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফজলুল হকসহ পৌরসভার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য