ভারী বর্ষন ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তা, ধরলা, বুড়ি তিস্তা ও সানিয়াজান নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। নদী গুলোর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার তিস্তা তীরবর্তী এলাকা গুলোতে বন্যা দেখা দেয়। তিস্তার পানিতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। সোমবার সকাল থেকে আবারও নদী গুলোর পানি বাড়তে শুরু করে। হাতীবান্ধা উপজেলার উওর ধুবনী গ্রামে সোমবার সকালে একটি বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের দোয়ানী পয়েন্টে সোমবার সকালে বিপদ সীমার ৩৮ সেঃ মি ঃ উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে থাকে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড দোয়ানী’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে পানি আসায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে কারণে তিস্তার তীরবর্তী এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। আমরা প্রতি মুহুর্তে¡ বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করছি। তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। আরও কি পরিমাণ পানি আসবে তা ধারনা করা যাচ্ছে না।

তিস্তা পাড়ের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন আগের বন্যায় চর এলাকা গুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে গেছে। জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় বন্যায় সব চেয়ে বেশি ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে। ওই উপজেলার উওর ধুবনী গ্রামে বাধঁ ভেঙ্গে গেছে। যে কারণে ওই এলাকায় বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি লোকজনের মাঝে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ভারতের গজল ডোবা ব্যারেজের অধিকাংশ গেট খুলে দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ঘর বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন। প্রচন্ড গতিতে ময়লা ও ঘোলা পানি বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে।

পানির গতি নিয়ন্ত্রন করতে তিস্তা ব্যারাজের সব গুলো গেট খুলে দেয়া হয়েছে। ফলে তিস্তার পানিতে পাটগ্রামে অবস্থিত বহুল আলোচিত সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহল আঙ্গোরপোতা-দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, সির্ন্দুনা, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন, কালীগঞ্চ উপজেলার ভোটমারী, শোলমারী, জমিরবাড়ী, বইরাতী, আদিতমারী উপজেলার কুঠিপাড়া, গোবর্দ্ধধন, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছা, রাজপুর, গোকুন্ডা এলাকার চরের ১৮ গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

হাজার হাজার একর আমন ধানের বীজ তলাসহ অনেক ফসলী ক্ষেত তিস্তার পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিন ধুবনী গ্রামের শামসুল হক, শরীফ মোল্লা, আব্দুস ছালাম, আবুল কাশেম, নুরল হকসহ অনেক পানিবন্দি পরিবার অভিযোগ করেন, আমরা ২ দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় আছি। এখন পর্যন্ত আমাদের মাঝে কোন ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। কেউ আমাদের খোঁজ পর্যন্ত করেনি।

হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দুলু জানান, তার ইউনিয়নের উওর ধুবনী গ্রামে একটি বাঁধ ভেঙ্গে গেছে ফলে বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিনি ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোর তালিকা তৈরী করছেন। ইতোমধ্যে ত্রাণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আবেদন করেছেন।

হাতীবান্ধা উপজেলার সির্ন্দুনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরল আমিন জানান, তার ইউনিয়নে ১২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিনি ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোর তালিকা তৈরীর কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন জানান, প্রচন্ড গতিতে ময়লা ও ঘোলা পানি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের দিকে ধেয়ে আসছে। লোকালয়ে পানি প্রচন্ড গতিতে প্রবেশ করছে। ইতিমধ্যে এই ইউনিয়নের ৬/৭ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। তিনি পানিবন্দি পারিবার গুলোর সহযোগিতার জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার আহবান জানান।

হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহম্মেদ জানান, ইতোমধ্যে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে পানিবন্দি পরিবার গুলোর খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরী করে উচ্চ পর্যায়ে প্রেরণ করা হবে। এাণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মো. আলাউদ্দিন খাঁন জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে পানিবন্দি পরিবার গুলো খোজঁ খবর নেয়া হচ্ছে। ত্রাণের জন্য উচ্চ পার্যায়ে আবেদন করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য