সরকারি বিনিয়োগ তহবিলসহ কাতারের রিজার্ভ ৩৪ হাজার কোটি ডলার বলে জানিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর শেখ আব্দুল্লাহ বিন সাউদ আল থানি।

এই রিজার্ভ থাকার কারণে পারস্য উপসাগরীয় ক্ষুদ্র দেশটি প্রতিবেশী শক্তিশালী আরব দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার চাপ ‘সহ্য করে নিতে পারবে’ বলে মনে করেছেন আল থানি।

সংবাদ চ্যানেল সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ ধারণা প্রকাশ করেছেন তিনি। সোমবার নিজেদের ওয়েবসাইটে ওই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেছে সিএনবিসি।

এতে আল থানি বলেছেন, “এটি আমাদের পদ্ধতির সার্থকতা। যেকোনো ধরনের ধাক্কা সামলানোর মতো পর্যাপ্ত নগদ অর্থ আমাদের আছে।”

তিনি জানিয়েছেন, কাতারের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে চার হাজার কোটি ডলার রিজার্ভের পাশাপাশি স্বর্ণের মজুদও রয়েছে, এছাড়া কাতারের বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের কাছে আরো ৩০ হাজার কোটি ডলারের রিজার্ভ আছে।

জঙ্গিবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলে গত ৫ জুন কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিশর। পাশাপাশি কাতারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগও বন্ধ করে দেয় ওই চারটি দেশ।

কাতার এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও এরপর থেকে কাতারের পুঁজি বাজার দুর্বল হয়ে পড়ে এবং কাতারি দিনার অস্থিতিশীল হয়ে যায়।

সিএনবিসিকে থানি বলেন, “ইতোমধ্যেই কাতার একটি অনন্য ও ভাল পদ্ধতির অধিকারী। সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কার্যকরী আইন প্রতিষ্ঠা করেছি আমরা। আমাদের আইনগুলো প্রতিষ্ঠার জন্য এবং অডিট ও রিভিউয়ের জন্য আমরা আইএমএফ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করি।

“আমরা কোনো চ্যালেঞ্জ অনুভব করি না। আমাদের হিসাবগুলো পর্যালোচনার জন্য তাদের স্বাগত জানাই, হিসাবগুলো খোলাই আছে।”

প্রতিবেশীদের নিষেধাজ্ঞা সত্বেও কাতারের তেল-গ্যাস সেক্টরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিগুলো কোনো ঝামেলার মুখোমুখি হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

চলতি মাসের প্রথম দিকে রেটিং এজেন্সি মুডির ইনভেস্টর সার্ভিস কাতারের ক্রেডিট রেটিং আউটলুক পরিবর্তন করে স্থিতিশীল থেকে নেতিবাচক করেছে; বলেছে, কাতারের সঙ্গে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব জোটের দ্বন্দ্বে দেশটির অর্থনৈতিক ও আর্থিক ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অপরদিকে অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, বিশ্বের শীর্ষ তরল গ্যাস রপ্তানীকারী দেশটি গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি ও নতুন যোগাযোগ রুট তৈরিসহ সঙ্কট সামাল দিতে অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য