তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান সরকারের বিরুদ্ধে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত চার বছরের মধ্যে এটি তুরস্কে সরকার বিরোধী সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ সমাবেশ।

এরদোগান সরকারের বিরোধীরা গত ১৫ জুন আঙ্কারা থেকে ‘জাস্টিস’ বা ‘ন্যায়বিচার’ নামে ৪৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ লং-মার্চ শুরু করেন এবং রোববার ইস্তাম্বুলে গিয়ে এটি শেষ হয়। সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দল পিপলস রিপাবলিকান পার্টির নেতা কেমাল কিলিচদারওগ্লুর আহ্বানে ওই লং-মার্চ শেষে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সমাগম হয়।

প্রেসিডেন্ট এরদোগানের রাজনৈতিক দলের নাম জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি। তিনি অভিযোগ করেছেন, সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন জানাতে এই লং-মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত বছরের জুলাই মাসের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের জের ধরে তুরস্কে গণ-গ্রেফতার ও শাস্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এই লং-মার্চের ডাক দেয় পিপলস রিপাবলিকান পার্টি। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই দলের সংসদ সদস্য এনিস বেরবারওগ্লুর মুক্তির দাবি জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস করে দেয়ার অভিযোগে এনিসকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

রোববারের সমাবেশে কিলিচদারওগ্লু বলেন, তুরস্ক থেকে ন্যায়বিচার বিদায় নিয়েছে এবং এর প্রতিবাদ জানানোর জন্য সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। সরকারি দমনপীড়নের মুখে অসহায় মানুষ বিশেষ করে কারাগারে আটক রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের প্রতি সংহতি জানাতে মানুষ স্বতস্ফুর্তভাবে লং-মার্চে অংশ নিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

২০১৬ সালের ১৫ জুলাই’র ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের জের ধরে তুরস্কে এক লাখ ৩০ হাজার সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত এবং অপর হাজার হাজার মানুষকে বন্দি করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য