ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ শুরু হয়েছে আমন ধানের চারা লাগানোর ভরা মৌসুম। চলিত মৌসুমে কৃষক ধানের দাম ভাল পাওয়ায় আবাদের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ মনে করছে আষাঢ়ে ১ম দিন থেকে গ্রাম অঞ্চলের কৃষকদের আমন ধান রোপনের সক্ষম সময় বলে ধরে নেয়া হয়। ঘোড়াঘাট উপজেলায় উঁচু জমির সংখ্যা বেশি হওয়ায় এখানকার কৃষকরা আষাঢ়ে আমন ধান রোপন করতে শুরু করেছে। কারন পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাব ছিল।

কয়েক দিনের পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় এখন আর উঁচু জমি গুলোও রোপন করতে অসুবিধা হচ্ছে না। ফলে ঘোড়াঘাটের কৃষকরা ২/৩ দিন থেকে আমন চাষে মাতোয়ারা হয়ে পড়েছে। এ এলাকার প্রধান ফসল ধান, আলূ, সরিষা, গম ও ভুট্টা। তবে আলূ চাষ অধিকতর লাভ জনক হওয়ায় এখানকার ধান চাষী কৃষকরা আলু আবাদের কথা মাথায় রেখে আগাম জাতের আমন ধান চাষ করতে বেশি পছন্দ করেন।

অপেক্ষাকৃত কম সময়ে আবাদযোগ্য ধানের মধ্যে চাষীদের পছন্দের তালিকায় প্রাধান্য পায় মামুন, সুমন, স্বর্না, গুটিস্বর্ণা ইত্যাদি। এছাাড়াও যেসব জমিতে চাষীরা আলু চাষ করতে পারে না তারা ব্রি-ধান-১১ এবং ভারতীয় জাতের রঞ্জিত ধান চাষ করে থাকেন।

ভারতীয় জাতের আগাম উৎপাদনশীল ধানের চেয়ে দেশজ উৎপাদনশীল ধান স্বল্প সময়ে যে সব ধান উৎপাদনযোগ্য তা হলো ব্রি-ধান-৪৯ এবং বিনা-৭ ধান চাষ করলে বেশি লাভবান ও আরও কম সময়ে ঘরে তুলতে পারবে কৃষকরা।

ভারতীয় আগাম জাতের ধানগুলোতে খল পঁচা রোগে প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। দেশজ ধান গুলোতে রোগ বালাই কম দেখা যায় এবং সারের প্রয়োগও কম লাগে। উপজেলা কৃষিবিদ মোঃ এখলাস হোসেন (কৃষি কর্মকর্তা) জানান, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। তবে গত কয়েক দিনে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষকরা উঁচু জমিগুলোর ১ বিঘা জমিও ফেলে রাখছে না। এতে করে কৃষি অফিসের লক্ষ্য মাত্রা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য